বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সবদিক বঞ্চিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা হাতির অভয়ারণ্য ধ্বংস, ১৩ হাতির মৃত্যু কেন্দ্রে প্রথমবার এড.সিরাজুল মোস্তফা, জেলার দায়িত্বে এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী এড.সিরাজুল মোস্তফা আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেন খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য আরও ১১৯টি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ পেকুয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে কালভার্ট ও সড়ক সংস্কার জেলা ছাত্রলীগকে স্বাগত জানিয়ে কুতুবদিয়া ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল সবাই মিলে কাজ করলে শুঁটকি পল্লীতে শিশুশ্রম নিরসন করা অসম্ভব হবে না আইডিয়াল স্পোটিংসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাদাস ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সোনাইছড়িতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার : অবশেষে জালে ‘সেই আবুল বশর আবুইল্ল্যা !

সিসিএন
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মে, ২০১৯
  • ৫৭৫ বার পঠিত

সিসিএন রিপোর্ট। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার, অবশেষে পুলিশের জালে ‘সেই আবুল বশর আবুইল্ল্যা’। আসামী এখন ৪টি মামলার। কিন্তু মামলার (আসামি) জালে আটকা পড়লেও  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আটকা পড়ছে না বিচক্ষণ এই কারবারী। অঢেল সম্পদ, কালো টাকার জোরে নিরীহ মানুষকে হয়রানী, অন্যের জমিজমা দখলে সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার, ইয়াবা ব্যবসা ও সিন্ডিকেট  সহ তার অপরাধ তদন্তে মাঠে নেমেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একাধিক সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সুত্র মতে, বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের  মৃত আক্কল আলীর ছেলে আবুল বশর আবুইল্ল্যা এক সময়ে সাগর থেকে রেনু পোনা শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার লোভে পড়ে শুরু করে মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা।

তার কয়েকটি ঘনিষ্ট সুত্র জানায়, ইয়াবা ব্যবসাকে আড়াল করার  জন্য এই বশর জমি জমার মিডিয়ার তকমা লাগান। বেশ কয়েকটি সরকারী বেসরকারি সংস্থা ও কোম্পানির কাছে জমি রেজিস্ট্রিরির মিডিয়া ( দালালী) করেন।

জমির মিডিয়ার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করে কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক, বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক  হলেও নিজেও জানেন না তার অবৈধ সম্পত্তির হিসাব।

গাড়ী, বাড়ী, নারী, ঘরের সামগ্রী, এক বহুতল থেকে অন্য বহুতল ভবন, নামে বেনামে জমিজমা কিনে এখন বিত্তশালীর তালিকায় আছে আবুল বশর । জমি ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য সরকারী একটি বিশেষ বাহিনীকে জমি রেজি: দিয়ে বার বার ওই বাহিনীর নাম ভাঙ্গাচ্ছে। কক্সবাজার শহর সহ বিভিন্ন স্থানের কিছু পরিচিত মুখ, পরিবহন নেতা, হোটেল ব্যবসায়ী, ব্যাংকার রাজনৈতিক নেতাও  তার সাথে জমি ব্যবসার দলে ভেড়ান। ধুরন্ধর বশর এই যাত্রায় সফল হওয়ায় তার ইয়াবা ব্যবসার পরিধি বাড়ান দিনদিন।

সুত্র আরো জানান, ইয়াবা ব্যবসার সুত্র ধরে একাধিক বিয়েও করেন বশর। স্ত্রী সহ নামে বেনামে সম্পত্তি কিনেন, বায়না করেন। বর্তমানে উত্তর শীলখালি গ্রামে ৩/৪ মার্কেট নির্মান করেন তিনি।

তবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়লেও এসবের বিপরীতে আয়কর সনদসহ অন্যকোন কাগজপত্র নেই তার। কোনদিন আয়করও দেননি। আয়কর যে দিতে হয়, তাও জানেন না বশর। তবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পেয়েও করেনি ইয়াবা চোরাচালানী আবুল বশর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল বশরের প্রথম স্ত্রী ছাড়াও মনু ও ছেন্নুর নামের রয়েছে আরো দুটি স্ত্রী । মনু পিতার বাড়ী ইয়াবার হাটখ্যাত টেকনাফের হ্নীলায়। তার শ্বশুর টেকনাফ হ্নীলা পশ্চিম  সিকদার পাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বার। আর ছেন্নুরের পিতার বাড়ী হোয়াইক্যং ঢালার দৈংগাকাটা নাম স্হানে পাহাড়ের উপরে বলে জানা গেছে। এই দুটি শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ইয়াবা ব্যবসায় প্রতিষ্টিত। তারাও প্রত্যেকে কোটি কোটি টাকার মালিক।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবুল বশরের ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার জন্য এসব বিয়ে করেন, বিয়ে করে তিনি সফলও হন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। হোয়াইক্যং ঢালায় তৃতীয় বিয়ে করলে তার সন্তান রিয়া এখনো স্বীকৃতি পায়নি। সেই স্ত্রীকে জমি কিনে ঘর করে দিলেও স্ত্রীর স্বীকৃতি দেয়া হয়নি আজও। সন্তান পিতার দাবী নিয়ে, তার মা স্ত্রীর দাবী নিয়ে এখনো বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তবে হোয়াইক্যং এর একজন সাবেক মেম্বার এই নারীকে জিম্মী করে রেখেছেন বলে অভিযোগ।

আবুল বশর জমি ব্যবসায়ী দাবী করে এতোদিন ইয়াবা কারবার করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ইতোপূর্বে হয়নি, ধরাও পড়েনি ধুরন্ধর কারবারী আবুইল্ল্যা। তবে ইতোমধ্যেই ৪টি মামলার আসামী হওয়ার পর তার স্বরূপ উম্মোচন হয়েছে।

তার সিন্ডিকেটের দুইজন বড় মাপের কারবারী টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বারের ছেলে মো. ওসমান গনি (২৮) ও মৌ. দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (৪৫) গত বছরের ২৪ মে নেত্রকোনা সদরের মদনপুর ইউনিয়নে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। নিহত ২ জনই বশরের দ্বিতীয়  স্ত্রীর  বড় ভাই। বন্দুক যুদ্ধের  ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান জব্দ করা হয়। এব্যাপারে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলাও হয়েছে। এঘটনার পর থেকে ওই নিহত দুই মাদক ব্যবসায়ীর পুরো সাম্রাজ্য একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন আবুল বশর।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবুল বশর দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকলেও কিন্ত কোনদিন সে ধরা না পড়লেও তার সিন্ডিকেটের অনেকে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে । অনেকে ইয়াবাসহ ধরা পড়লেও ইতোপূর্বে কোনদিন মামলার আসামী হয়নি আবুইল্ল্যা।

চলতি বছর ৩০ মার্চ শনিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি তিনটি বন্দুক, ১২টি গুলি ও দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ, কনস্টেবল ফাহিম ও মাসুদ গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানা পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৫/১৯, ৮৬/১৯ ও ৮৭/১৯, তাং-৩০/০৩/২০১৯।

পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত এই তিনটি মামলায় এজাহার নামীয় ১২ নং আসামী হচ্ছে টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী এই আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা।

এছাড়াও ২০১৬ সালে বাহারছড়া শামলাপুরের মোস্তাফিজ নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করেন এই আবুল বশর সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

শামলাপুর প্রামের মৃত রশিদ আহমদ (কালুর) ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আবুল বশরকে দুই নাম্বার আসামী করে ঘটনায় জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী। টেকনাফ থানার মামলা নং-১/১৬, যার নাম্বার জি, আর, ১/২০১৬।

মামলাটি বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল)  তদন্ত করছেন। এই হত্যা মামলাটিও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলা আসামী হতে বাদ যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শুরুতে কয়েকবার খপ্পরে পেয়েও পুলিশ কবজা করতে পারেনি তাকে।

উত্তর শীলখালি গ্রামের তিনটি দ্বিতল বাড়ি, তিনটি একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছে। এছাড়া হোয়াইক্যং ঢালার ভেতরও জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছে। তার তিনটি স্ত্রীর জন্য ৭টি বাড়ি করলেও অধিকাংশ বাড়িতে চলে ইয়াবা লেনদেন। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ইয়াবা ব্যবসার কালো টাকায় লালন করে আসছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। বিভিন্ন সময় বেদখলি জমি ক্রয় কিংবা বায়না করার পর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তা দখলে নেয় আবুল বশর। প্রতিবাদ কিংবা বাধা দিলে তাদের উপর চলে নির্যাতন। বিভিন্ন সময় মিথ্যাা মামলার শিকারও হয়েছে অনেক নিরীহ মানুষ। এই বশর বেশির ভাগ বেখলি জমি ক্রয় করেন। সন্ত্্রাসী বাহিনী দিয়ে দখল করে সেখানে টিনের ঘর তৈরি করেন।বর্তমানে এধরনের প্রায় ১০ একর জমি আছে তার।

মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশরের বিরুদ্ধে ২টি হত্যা, পুলিশ আ্যাসল্ট, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ৪টি নিয়মিত মামলা মাথায় নিয়ে সেও ভাল মানুষ। অন্যের জমি দখল, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লালন ও নিরীহ লোকজনকে বিভিন্ন ভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অহরহ। শামলাপুরের একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে সখ্যতা করে আবদুল খালেক নামের একজন নীরিহ ব্যক্তিকে ( মসজিদের জমি দখলে প্রতিবাদ করায়) মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ফাঁসিয়েছে এই ইয়াবা গডফাদার।

অবশ্য জানা গেছে, ২’শ ইয়াবা সহ একজন ব্যক্তিকে আটক করে শামলাপুর ফাড়ির পুলিশ। কিন্তু ২’শ ইয়াবা আটক মামলায় খালেক সহ আরো ৪/৫জনকে পলাতক দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ পেলে তদন্তে নামের এএসপি উখিয়া সার্কেল।

এধরনের ঘটনা তদন্ত করে ইয়াবা আবুল বশরের ইন্দনে আবদুল খালেক ষড়যন্ত্রের শিকার, খালেক নির্দোষসহ পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত সহ আরো বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারী পুলিশ সুপারের নিকট একটি তদন্ত প্রতিবেদন দায়ের করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) । উক্ত প্রতিবেদনে এই ইয়াবা আবুল বশরের বিভিন্ন অপকর্মের কথা বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৪টি মামলাার এজাহার নামীয় আসামী আবুল বশর আবুইল্ল্যা পুরো বাহারছড়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার শহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উত্তর শীলখালীর এই দুষ্কৃতীকারীর আসল নাম আবুল বশর, ডাক নাম আবুইল্ল্যা। এখন অনেকে ইয়াবা গডফাদার আবুইল্ল্যা হিসেবে চিনেন। শেষমেশ বিভিন্ন সংস্থা ফাঁদ পেতে এই কারবারীকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সুত্রে প্রকাশ।

২টি হত্যা, ইয়াবা, অস্ত্র ও পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামী ইয়াবা গড ফাদার আবুল বশর আবুইল্ল্যার অদম্য সাহসের বহর দেখে ‘ধুরন্ধর’ কারবারী খেতাব দিয়েছিল বন্ধুরা।

সেটাই এক সময় ‘কাল’ হয়ে দাঁড়ায় আবুইল্ল্যার।

পুলিশের ঘুম কেড়ে ছাড়ে সে। শুধু পুলিশ নয়, পুরো দেশবাসী এখন বশরকে ধুরন্ধর ইয়াবা কারবারী নামেই বেশি জানে।

মুখে মুখে ছড়িয়ে রয়েছে ধুরন্ধর ইয়াবা কারবারী আবুইল্ল্যার রোমাঞ্চকর ইয়াবা ব্যবসার নানা গল্প।

এব্যাপারে আবুল বশর আবুইল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি একজন জমি ব্যবসায়ী। পুলিশ তাকে শত্রুতা করে তিন মামলার আসামী করেছে বলে দাবী আবুল বশরের।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel