বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সবদিক বঞ্চিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা হাতির অভয়ারণ্য ধ্বংস, ১৩ হাতির মৃত্যু কেন্দ্রে প্রথমবার এড.সিরাজুল মোস্তফা, জেলার দায়িত্বে এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী এড.সিরাজুল মোস্তফা আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেন খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য আরও ১১৯টি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ পেকুয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে কালভার্ট ও সড়ক সংস্কার জেলা ছাত্রলীগকে স্বাগত জানিয়ে কুতুবদিয়া ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল সবাই মিলে কাজ করলে শুঁটকি পল্লীতে শিশুশ্রম নিরসন করা অসম্ভব হবে না আইডিয়াল স্পোটিংসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাদাস ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সোনাইছড়িতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

উখিয়ায় ইয়াবা বিরোধী অভিযানে পদে পদে বাঁধার নেপথ্যে!

সিসিএন
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯
  • ২২০ বার পঠিত

সিসিএন রিপোর্ট।

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। ইয়াবার বুক খ্যাত টেকনাফে  রয়েছে বড় বড় ইয়াবা চোরাচালানী ও ইয়াবা ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী।

পাশাপাশি ইয়াবার আরেক উর্বর ভুমি সীমান্ত উপজেলা উখিয়াও। টেকনাফের মতো বড় বড় কারবারী এই উখিয়া উপজেলায়ও রয়েছে। তবে সংঘর্ষে মারা পড়েছে অনেক কারবারী, তবে আটক হয়েছে খুব নগন্য। উখিয়া উপজেলায়ও ইয়াবা কারবারীদের শতশত বিলাসবহুল অট্টালিকা রয়েছে।

মিয়ানমারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরাও অবস্থান করছে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে। সেসুবাদে ইয়াবার বড়বড় চালান ডুকছে সহজে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়া- টেকনাফের অন্তত ৪২ টি ইয়াবা প্রবেশের পয়েন্ট রয়েছে। সীমান্তের বেশির ভাগ পয়েন্ট পড়েছে উখিয়ায়। কিন্তু সে অনুপাতে মাদকের বিরুুদ্ধে  পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নেই। বড় বড় কারবাারিরা উখিয়ায় বহাল রয়েছে।

উখিয়ায় ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে ভালো চোখে দেখছে না কারবারিরা, আর ইয়াবার বিরুদ্ধে নীবর অভিযান রহস্যজনক মনে করছেন, সচেতন মহল। তবে পুলিশের দাবী, উখিয়ায় ইয়াবা বিরোধী অভিযানে পদে পদে বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

সুত্রে জানা গেছে,  ইয়াবা বিরোধী অভিযানে টেকনাফ এবং উখিয়ায় ভিন্ন রকমের চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। টেকনাফে পুলিশ ইয়াবা বিরোধী অভিযানে বাহবা পেলেও তার পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র বিদ্যমান। এমনকি টেকনাফে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতা পেলেও উখিয়ায় উল্টো এক্ষেত্রে পুলিশ পদে পদে নানাভাবে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফে প্রতিদিন এবং প্রায় প্রতিরাতেই ইয়াবা বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের এই থানাটিতে সবখানেই পুলিশ একদম নির্বিঘ্নে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার মরণ ছোবল থেকে জাতিকে পরিত্রাণ দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সাথে সাথে বিজিবি, র‌্যাব, কোষ্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও এক্ষেত্রে সক্রিয় ভুমিকায়  রয়েছেন।

টেকনাফ-উখিয়া দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ইয়াবা কারবারিদের দৌরাত্মও এখানে সঙ্গত কারনেই বেশী। গত বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পর থেকেই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে।

টেকনাফে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে কয়েক শ কারবারিকে আটক করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এ পর্যন্ত টেকনাফেই অন্তত আশি জনেরও বেশী ইয়াবা কারবারি ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

অথচ এই আশি জন কারবারির জন্য টেকনাফের কোথাও কোন একটি সাংবাদিক সম্মেলনতো দুরের কথা একটি টু-শব্দও উচ্চারিত হয়নি। অথচ উখিয়ার মরিচ্যা বাজার থেকে একজন ইয়াবা কারবারিকে ইয়াবার চালান সহ পুলিশের হাতে আটক হওয়াকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের নিকট অনেক তদবির হয়েছে আটক কারবারিকে ছাড়িযে নিতে।

এমনকি আবদুস শুকুর নামের আটক এই ইয়াবা কারবারিকে মুক্ত করতে ইতিমধ্যে উখিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ বাণিজ্যের’ মত জঘন্য অভিযোগ উত্থাপন করে সাংবাদিক সম্মেলনও করা হয়েছে। আর এই সংবাদ সন্মেলনে যারা ইন্দন দিয়েছে তাদের মধ্যে বেশির ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতাকারী।

উখিয়া সব বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা কারবারী আটক হলেই ওই সিন্ডিকেট তৎপর থাকেন। তারা টাকা নিয়ে কন্টাকের ভিত্তিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার সহ ইয়াবা কারবারীদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠে। এধারা চলে আসছে দীর্ঘদিন। কারবারী আবদু শুক্কুরের বেলায়ও তার বিপরীত ঘটেনি। ৫০ হাজার টাকা সংবাদ সম্মেলনে খরচ করার পেছনের কাহিনী শুনলে চমকে উঠারমতো।

উখিয়া থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এরকম অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে-ইয়াবার চালান সহ পুলিশের নিকট গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি একজন দোকান কর্মচারি। আবার এমনই একজন দোকান কর্মচারি নাকি কয়েকটি ট্রাকের মালিক।

তিনি একারনে ট্রাক মালিক সমিতিরও সদস্য। আর এ কারনে একজন ইয়াবা কারবারির জন্য মানব বন্ধন কর্মসুচিরও হুমকি দেয়া হয়েছে। অনুরুপ পালংখালীর একজনকে আটক নিয়েও নানা কৌশলের আশ্রয় নেয় কারবারির দল।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার

ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল খায়ের জানিয়েছেন, টেকনাফে ব্যাপক ধরপাকড় এবং শতাধিক ইয়াবা কারবারি আত্ম সমর্পণ করে কারাগারে আটক থাকার পর থেকে উখিয়া সীমান্তে কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবার খবরে পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ইয়াবা কারবারিদের সনাক্ত করে। এরপর ইয়াবা বিরোধী রাষ্ট্রীয় নির্দ্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশী অভিযানেও গতি বাড়িয়ে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা বাস্তবায়নে কিছুতেই পুলিশ পিছ পা হবেন না। এক্ষেত্রে পুলিশ সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার কৌশল হিসাবে কারবারিরা যতই মিথ্যা রটনা ছড়িয়ে দিক তাতে কিছুই আসে যায় না। তিনি বলেন, মাদকের পক্ষে কেন আপষ নয়, মদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, চলবে।

টেকনাফে ইয়াবা কারবারিদের জন্য পুলিশের কাছে কোন ধরণের তদবির না থাকলেও উখিয়ায় এমন ঘটনার বিপরীত চিত্র নিয়ে নানা কথা উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ ইয়াবা করাবারিরা উখিয়াকে ইয়াবা কারবারের নির্বিঘ্নে রুট করার স্বার্থে কোন কারবারি ধরা পড়ার সাথে সাথেই কৌশলে নানা তদবিরে নেমে পড়েন। সেই সাথে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানকে প্রশ্ন বিদ্ধ করারও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে উখিয়ায় এ মুহুর্তে চলমান কঠোর অভিযান আরো জোরদার করা না হলে কারবারিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে-তখন এর পরিণতি ভোগ করতে হবে দেশবাসীকে।

গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এ নিয়ে র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ ও এলাকায় মাদকের প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় ৯৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এক রোহিঙ্গা নারীসহ ১৯ রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফে ৫৯ ও উখিয়ায় দুই জন নিহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel