বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নাইক্ষ্যংছড়িতে ২৮টি স্বর্ণের বারসহ ২পাচারকারী আটক রামুতে করোনা সচেতনতামূলক প্রচারনা ও মাস্ক বিতরণ ‘ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ’ রামুতে আস্থা প্রকল্পের সভা অনুষ্ঠিত রামুতে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার অবস্থান কর্মসূচি ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন চকরিয়ায় যাত্রীবেশে সৌদিয়া বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার চকরিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ভিক্ষা ছেড়ে হবেন আত্মনির্ভরশীল: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৩৪ জন উপকারভোগী বান্দরবানে ১০টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইতিহাসের নাম লেখালেন বগুড়ার কিশোর – রাব্বি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন দুই নারীসহ ৪৩ সাঁতারু

কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে আইসক্রীমের নামে শিশু কিশোররা খাচ্ছে রঙ্গিন বিষ

সিসিএন
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মে, ২০১৯
  • ২৭৭ বার পঠিত

সিসিএন রিপোর্ট। 

কক্সবাজার পর্যটন শহর, শহরতলি ও জেলার প্রতিটি গ্রাম,পাড়া, মহল্লা এবং প্রাইমারী স্কুল, হাইস্কুলসহ কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টারের সামনে শিশু কিশোররা আইসক্রীমের নামে খাচ্ছে রঙ্গিন বিষ।

তীব্র গরম থেকে স্বসিত্ম পেতে হরহামেসে শিশু কিশোররা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর রকমারী রং এ্যারারুড পাউডার, পঁচা নারকেল, আটা-ময়দা ও সিট ক্যামিকেল দিয়ে তৈরী আইসক্রীম কিনে খাচ্ছে।

কক্সবাজার শহরেই আছে অন্তত আটটি অনুমোদনহীন আইসক্রীম ফ্যাক্টরী। কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল এসএম পাড়া সড়কে বেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন সাথি আইসবার, মো. ফরিদ (মোল্লা) মালিকানাধীন পিপিসিএল আইস বার , মাইদুল (সাহাব উদ্দিনের ভেতরে) কুলপি আইস বার, ঝিলংজা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনে বিপরীতে ফরেস্ট অফিস রোডের মাথায় বেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন সানি আইস বার, বাসটার্মিনাল পূর্বলারপাড়া টোকাই কবির আইস বার, লারপাড়া আইসক্রীম ফ্যাক্টরী (আবুল হোসন মেম্বারের বাড়ির পাশে)। ইয়াবা গডফাদার টোকাই কবির পলাতক হওয়ায় এখন তার শ্বশুরই আবুল হাসেম পরিচালনা করছে।

এগুলোর মধ্যে শহরের আলীর জাহাল ও সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকার ৪টি অনুমোদনহীন আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এই সব আইসক্রীম ফ্যাক্টরীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবাধে এবং প্রকাশ্যে আইসক্রীম প্রস্তুত করে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রতিদিন ছড়িয়ে দিচ্ছে কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। গরম কালে বেড়ে যায় আইসক্রিমের কদর। আর এই সুযোগে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের আইসক্রিম তৈরি এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারা বাসা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যান এ ব্যবসা। যেখানে শুধুমাত্র কক্সবাজার পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সও রয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন আইসক্রিমের কারখানার লাইসেন্স না দেওয়ায় বিধি নিষেধ থাকলেও আইস বার লিখে লাইসেন্স নিয়েছেন এই অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর মালিক কারা, কি কি উপাদানে তৈরী হচ্ছে, কোন পরিবেশ এবং কোথায় সেটা কি স্বাস্থ্যসম্মত এসব ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ কর্তৃপক্ষের ধারনা বা নজরদারী আছে বলে মনে হয়নি। কুলফি মালাই, মিল্ক মালাই, কোকোনাট মালাই, সকাল সন্ধ্য মালাই, সর মালাই, রঙ্গিন মালাই, পোলার, কিরণমালা এমনই সব বাহারী নামের মালাই খেয়ে কোমলমতি শিশু কিশোররা পেটের পীড়ায় ভুগছে, হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি তবুও বিধি নিষেধ নেই আইসক্রীম নামে রঙ্গিন বিষ তৈরী এবং বিক্রয়ে। প্রতিদিন এসব আইসক্রীম ফ্যাক্টরী হতে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার পিস আইসক্রীম উৎপাদন করা হয়। যে সবরে মুল্য পাইকারী হাকে দুই টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এই সব আইসক্রীম সরবরাহ দেয়া হয় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ শহর ও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

এছাড়াও মুদি, পান বিড়ি ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে প্রতিষ্ঠিত আইসক্রীম কোম্পানীর আইসক্রীম ছাড়াও স্থানীয় মানহীন আইসক্রীম বিক্রয়ে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের উৎসাহ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু কক্সবাজার শহরেই এক অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, শিশু খাদ্যের নামে যেগুলো বাজারে বিক্রয় হয় তা অর্ধেকই নকল, ভেজাল, মানহীন এবং সরকারের অনুমতি বা বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই বিক্রয় হয়ে থাকে। যা শিশুরা খেলে পড়বে চরমভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

কক্সবাজার সরকারী কলেজের ছাত্র নাহিদ বলেন, এ ধরণের আইসক্রিম কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এরা যে পরিবেশে এবং ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করে- তা যদি কেউ দেখে তাহলে আর এই আইসক্রিম খাবে না। মোবাইল কোর্টে শুধুমাত্র জরিমানা করলে হবে না। এ ধরণের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel