মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়ায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর মেচ ও শাহ মজিদিয়া রেস্টুরেন্টকে জরিমানা কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবার হচ্ছে ‘শিশু হাসপাতাল’ বিজিবির অভিযান: ৬০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এসআর নিহত অবৈধ দখলঃ ২ একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার সৈকতে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৪২ জন পর্যটক ও ব্যবসায়ীকে ৬০২০ টাকা জরিমানা বিএনপি বাসে আগুন দিয়ে আ’লীগ সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত চায়: সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেতু মন্ত্রী টেকনাফে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারী আটক:বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ টেকনাফে সরকারি খাস জমিতে নির্মাণাধীন মার্কেটের কাজ বন্ধ করে দিলেন-স্থানীয় সাংসদ

গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হোয়াইক্যংয়ের ইয়াবা গডফাদার শাহ আলম মেম্বার

সিসিএন
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মে, ২০১৯
  • ১২৮ বার পঠিত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট, সিসিএন। 

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইয়াবা ব্যবসার উর্বর ভূমি কক্সবাজারের টেকনাফ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এখানকার ঘরে ঘরে বিস্তার লাভ করেছে ইয়াবা ব্যবসা। এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের হাত ধরে মরণব্যাধি এ মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এদের কেউ কেউ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গডফাদার। আবার বড় একটা অংশ সরাসরি ব্যবসার সঙ্গেই জড়িত। তাদেও মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. শাহ আলমও অন্যতম।

২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর মিনা বাজার এলাকার হালিমা, রোকসানা নামের দুই নারীকে ও আবদু শুক্কুর নামের সহযোগীকে নিয়ে মেম্বার শাহ আলম টেকনাফ থেকে বিলাস বহুল বাস গ্রীণ লাইন পরিবহণ যুগে ঢাকা যাচ্ছিলেন তারা।

কিন্তু টেকনাফ থেকে বিভিন্ন চেকপোষ্ট পেরিয়ে গেলেও মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়স্থ জেএনআই পেট্রোল পাম্পের পাশে তাদের তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পায় পুলিশ। মেম্বার শাহ আলমসহ ৪ জনকে ইয়াবাসহ আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়। তারা ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন কারা ভোগের পর তারা জামিনে মুক্তিও পায়। এভাবে মাদকের সঙ্গে সখ্য করেই সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফকে জনপ্রতিনিধিরা বানিয়েছেন ‘মাদকাসক্ত’ এক শহর।

টেকনাফের ‘মাদকাসক্ত’ ইউনিয়ন হচ্ছে হোয়াইক্যং। এ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলম। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লাখ লাখ পিস ইয়াবা পাচার করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন রাতারাতি। জনশ্রুতি রয়েছে, ইয়াবার কালো টাকার দাপটেই ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শাহ আলম। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৃহত্তর সিন্ডিকেট গঠন করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়েও দাপ্তরিক কাজ করছেন শাহ আলম ।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ছয় না¤া^র ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ শাহ আলম প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াবার চালান নিয়ে আটক মামলা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফেরারি হয়েছেন তিনি। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি গ্রেফতার হন না। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনা বাজার গ্রামের মৃত হাজী ওলী মিয়ার ছেলে শাহ আলম বিলাশবহুল চেয়ার কোচে যাত্রী সেজে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছেন।

ইয়াবার চালান নিয়ে আটক হয়ে জেল খাটার পরেও ইয়াবা ব্যবসা জিইয়ে রেখেছেন। ইয়াবা ব্যবসার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন। তিনি জনপ্রতিনিধি তকমা লাগিয়ে ইয়াবা ব্যবসা তার কাছে নতুন কিছু নয়।
জানা গেছে, গত ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর টেকনাফ থেকে বিলাসবহুল গ্রীন লাইনের পরিবহন করে ইয়াবার একটি বিশাল চালান রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হন।

এসময় তার সহযোগী আবদু শুক্কুর, সহযোগী দুই নারী সহ ইয়াবার চালান নিয়ে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে গজারিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে গজারিয়াা থানার মামলা নম্বর ২১ জিআর- ৩৫৫। গজারিয়া থানা এসআই মোঃ হেলাল উদ্দিন বাদী এ মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মীর সাখাওয়াত হোসেন উক্ত ৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

এদিকে, ইয়াবাসহ আটক শাহ আলম মেম্বার দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান বর্তমানে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ সেশন মামলা নম্বর-৩৫/১৬। আদালত থেকে জামিনে মুক্তিরপর থেকে আর আদালতে হাজিরা দেইনি। জামিনের পর থেকে পলাতক রয়েছে শাহ আলম। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় শাহ আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দায়রা জজ আদালত। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জে জেলা জজ আবারও গ্রেফতারী পরোয়ানা স্বারক নং-৬৪৮৬, ৬৪৮৭. ৬৪৮৮ ও ৬৪৮৯ জারি করেন।

মুন্সিগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে পেশকার আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, আদালতে মামলার হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বিজ্ঞ আদালত। বেশ কয়েকটি গ্রেফতারী পরোয়ানার কপি টেকনাফ থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছেন,গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী শীর্ষ তালিকার এই মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমকে গ্রেফতার করা দূরে থাক, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তার বাসাবাড়িতে অভিযানই চালায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্টো মেম্বার শাহ আলম প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকাভুক্ত ও মাদক মামলার ওয়ারেন্ট থাকার পরও কীভাবে শাহ আলম ঘুরে বেড়ান- এটিই এখন স্থানীয়দের কাছে ‘অপার রহস্য!’

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel