বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নাইক্ষ্যংছড়িতে ২৮টি স্বর্ণের বারসহ ২পাচারকারী আটক রামুতে করোনা সচেতনতামূলক প্রচারনা ও মাস্ক বিতরণ ‘ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ’ রামুতে আস্থা প্রকল্পের সভা অনুষ্ঠিত রামুতে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার অবস্থান কর্মসূচি ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন চকরিয়ায় যাত্রীবেশে সৌদিয়া বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার চকরিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ভিক্ষা ছেড়ে হবেন আত্মনির্ভরশীল: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৩৪ জন উপকারভোগী বান্দরবানে ১০টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইতিহাসের নাম লেখালেন বগুড়ার কিশোর – রাব্বি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন দুই নারীসহ ৪৩ সাঁতারু

সংবাদ বিশ্লেষন-ইয়াবা কারবারী আবুইল্ল্যা : বস্তুনিষ্ট সংবাদ ও ইয়াবা ব্যবসায়ির আস্ফালন

সিসিএন
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মে, ২০১৯
  • ১৯৭ বার পঠিত

সিসিএন রিপোর্ট। 

সরকার যখন ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে ঠিক সেই মুহুর্তে কিছু মামদক ব্যবসায়ি চক্র মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে থমকে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর বিভিন্ন ভাবে মাদক ব্যবসা ঠিকে রাখতে সাধু সাজারও চেষ্টা করেছিল মাদক কারবারীরা। কিন্তু যাত্রা পথে তারা হয়েছে ব্যর্থ। বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত নেই, কোন জিডি মামলা নেই, কোনদিন আটক হয়নি এসব ধোয়া তুলে বড় বড় কারবারী গণমাধ্যমে প্রতিবাদ বিবৃতি দিয়ে দায় সারতে চেয়েছিল। কিন্তু এধরনের কান্ড ঘটনানোর কাজে জড়িত বেশি ভাগ মাদক ব্যবসায়ী আত্ম সর্ম্পন করে তারা নিজেরাই মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকার করে ভাল পথে ফেরার উদ্যোগ নেন।আত্ম স্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন তাদের কৃত কর্মের জন্য অনুশোচনা করছেন।

একই ভাবে টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরনো মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুইল্ল্যাও সেই আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারীদের মতো এখন সাধু! তিনি নেত্রকোনা থানা, টেকনাফ থানাসহ পুলিশের ভুমিকাকে প্রশ্নে মুখোমুখি করছেন,মাদক কারবারী আবুল বশর একটি তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও সহকারী পুলিশ সুপারকে মিথ্যার মুখোমুখি করাচ্ছেন! বার বার পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করাচ্ছেন, মিথ্যার মুখোমুখি ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া দরখাস্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে থমকে দিতে চাচ্ছে। এখন সময়ের অপেক্ষা সেই আবুইল্ল্যাও কি ১০২ ইয়াবা কারবারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন।

গত ১৫ এপ্রিল ও ১৭ এপ্রিল কক্সবাজারের জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক নিউজ কক্সবাজার ও আলোকিত টেকনাফ এ টেকনাফ শিলখালীর ইয়াবা কারবারি আবুল বশরের উত্থান যেভাবে : বন্দুকযুদ্ধ মামলা থেকে বাদ যেতে মরিয়া, টেকনাফে বীরদর্পে ঘুরছে দুইটি হত্যা,পুলিশ অ্যাসল্ট ও ইয়াবাসহ ৪ মামলার আসামী আবুল বশর, ১৮ এ্রপ্রিল ইয়াবা ডন আবুল বশরের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে কুকীর্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য,শিরোনামে সংবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদগুলো পড়ে যতটুকু জানলাম এখনো ইয়াবা কারবারীরা বীরদর্পে আছে। কোনা আছে জানিনা।সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তথ্য বহুল ও বস্তুনিষ্ট সংবাদগুলো প্রকাশ করায় আমি ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে।এই সংবাদগুলো প্রকাশের আগে সংবাদের নীতিমালা অনুসরণ করেছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুইল্ল্যার বক্তব্যও ছাপানো হয়েছে।

সংবাদগুলোতে বস্তুনিষ্টতার সাথে তথ্য বহুল ইয়াবা কারবারী আবুল বশরের উত্থান যেভাবে, বন্দুক যুদ্ধ মামলা থেকে বাদ যেতে মরিয়া, পুলিশের উপর হামলা, হত্যা ও ইয়াবা মামলা থেকে বাদ যেতে কোটি টাকার মিশন, জমির খতিয়ান জালিয়তি করে সরকারী একটি বাহিনীকে জমি বিক্রি, ইয়াবা ও হত্যা মামলার আসামী হয়েও পুলিশের সাথে আঁতাত করে ঘুরাফেরা করা, টাকা দিয়ে ইয়াবা মামলায় আবদুল খালেক নামক এক ব্যক্তিকে মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন তথ্য সেখানে উপস্থাপন করা। যার সাথে বাস্তবতারও মিল খুজে পেলাশ একজন পাঠক হিসেবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪১ জন, আটক হয়েছে অসংখ্য৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী এবং তারা বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন৷কিন্তু এখনো আবুল বশর আবুইল্ল্যার মতো মাদক ব্যবসায়ীরা কিভাবে প্রকাশ্যে আস্ফালন করছে। এটা সাধারণ মানুষ অন্য চোখে দেখছে।

টেকনাফের একটি অনলাইনে আবুল বশর আবুইল্ল্যা উল্লেখিত সংবাদগুলো প্রতিবাদ দিয়েছে। প্রতিবাদগুলোতে তিনি অনেক বড় মাপের ইমানদার সাজার অপচেষ্টা করেছে। আমি উল্লেখিত সংবাদগুলো এবং প্রতিবাদগুলো পড়ে বুঝলাম, প্রতিবাদদাতা নিজেই আত্মঘাতি বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ দিতে গিয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের বিরুদ্ধে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে যমদুত খ্যাত কর্ম দক্ষতা, নিষ্টা আর সাহসীকতার জন্য পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম বার প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার প্রদীপ কুমার দাশকে বির্তকিত করার গভীর যন্ত্র প্রকাশ পেয়েছে।

সংবাদ ও প্রতিবাদ নামাগুলোর বিশ্লেষণ করা আমার নৈতিকতার মধ্যে পড়ছে বিধায় আমি পাঠকদের জন্য বিশ্লেষণ তুলে ধরলাম। কারো ভালো লাগবে, কারো খারাপ! এরপরেও আমি বলতে চাই, লিখতে চাই অন্তরালের বিশ্লেষণ।

সংবাদে তিনি তার বিরুদ্ধে তথ্যহীন অনেক অপবাদ উল্ল্যেখ করেছেন বলে দাবী করেন। কোন পুলিশ সদস্যের সাথে তার কোনো আঁতাত নেই, তার দাবী।আবুল বশর অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, আইন শৃঙ্কলা বাহিনী, যাকে তারা অপরাধী হিসেবে প্রমান পাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।আবুল বশর একজন বড় মাপের ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করেছে, এমনকি পুলিশের উপর হামলা, ইয়াবা, অস্ত্র উদ্ধার ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ের পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে।  চলতি বছর ৩০ মার্চ শনিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, মোহাম্মদ হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়ার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, হত্যাসহ চারটি মামলা আছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি তিনটি বন্দুক, ১২টি গুলি ও দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ, কনস্টেবল ফাহিম ও মাসুদ গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানা পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৫/১৯, ৮৬/১৯ ও ৮৭/১৯, তাং-৩০/০৩/২০১৯।
পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত এই তিনটি মামলায় এজাহার নামীয় ১২ নং আসামী হচ্ছে টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী এই আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা।

সেই মামলাগুলোর ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী তখন রাত ২১.৩৫ মিনিট আর ঘটনাস্থল তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে। এত রাতে আমি ওখানে কেন যাব ? আর উক্ত মামলাতে ১২ নং আসামীতে আমার নামটি দেওয়া হয়। আমি পুলিশকে দুষ দেবনা,আমার এলাকার কিছু শক্র আমার নামটি ঢুকিয়ে দিয়েছে।  ইতি মধ্যে আমি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মহোদয় ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি দরখাস্ত দিয়েছে। তার দাবী এলাকার কিছু শক্র তার নামটি পুলিশের অজান্তে ডুকিয়ে দিয়েছে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তার শত্রু থাকতে পারে! কিন্তু এজাহার লেখা, রুজু করা, তদন্ত করা সবই পুলিশের কাজ। পুলিশ সব কিছু খবর নিয়েই করেন। কিন্তু এজাহারে পুলিশের অজান্তে এই মাদক ব্যবসায়ীর নাম ডুকিয়ে দেয়ার সুযোগ কিভাবে হলো পাবলিকের, তা আমার জানা নেই।

বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি দরখাস্ত দিয়েছে। দরখাস্তে উল্লেখ করেছে সে নির্দোষ। তাহলে পুলিশ কি নিরীহ মানুষকে হয়রানী করছে! মাদক বিরোধী অভিযান থমকে দেয়ার জন্য ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুইল্ল্যার কথা মতে এমনই ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি জমি ব্যবসায়ী দাবী করে বাংলাদেশের একটি সুনামধন্য বাহিনী বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর নামটি বার বার ভাঙ্গাচ্ছেন। সেনাবাহিনীসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সাথে আমার জমি ব্যবসা রয়েছে বলে ওই সব বাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, আবুল বশর আবুইল্ল্যা বেশ কয়েক বছর আগে সরকারী ১নং খাস খতিয়ানের জমি বন্দোবস্তি জমি হিসেবে নাম ভাঙ্গিয়ে ভুয়া খতিয়ান সৃজন করে সেনা বাহিনীকে বিক্রির দালালি করেন। দুটি ভুয়া খতিয়ানের মাধ্যমে জমি রেজিষ্ট্রিও করিয়ে দেন। পরে ক্রেতাদের নামে খতিয়ান সৃজন করতে গিয়ে ওই সব খতিয়ান ভুমি অফিসে পাওয়া যায়নি বলে, তারা খতিয়ান খুলতে পারেনি। সে একজন বড় ধরনের প্রতারক হিসেবে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে।

জমির দালালী করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে বলে দাবী করলেও আবুল বশর বস্তুত একজন বড় মাপের ইয়াবা কারবারী সেটা স্পষ্ট। কারণ এই কালো টাকাগুলোর ব্যাপারে এ পর্যন্ত সরকারকে কোন আয়কর দেননি। দিবে কিভাবে, কালো টাকা কর কি করে হয়।গত তিন বছরের ভেতর কোন জমি রেজিষ্ট্রি করার ব্যাপারে আবুল বশর জড়িত ছিল এমন কোন প্রমাণ নেই। এই প্রতারক যে বাহিনীটির নাম বার বার ভাঙ্গাচ্ছে, সেই বাহিনী সহ বিভিন্ন মহলে সেই বশর একজন জালিয়াতি কারক, ভুয়া দলিল, খতিয়ান কারক হিসেবেও অনেক বছর আগে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে।

গত বছরের ২৪ মে নেত্রকোনা সদরের মদনপুর ইউনিয়নে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বারের ছেলে মো. ওসমান গনি  ও মৌ. দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল। নেত্রকোনা পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান জব্দ করা হয়।

এলাকাবাসীর মতে, তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি সবার কাছে প্রথম নিশ্চিত করেন এই আবুল বশর, কারণ তার সাথে ওই দুই জনের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিল এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ঘটনাও সে জানত বলে জানা গেছে।নিহতরা সম্পর্কে তারা চাচাত ভাই। আবুল বশরের দ্বিতীয় স্ত্রী মনুর বড় ভাই ওসমান গনি ও চাচাত ভাই মো. ইসমাঈল, এরা ছিল আবুল বশরের আসল ইয়াবা পার্টনার। নিহত ২ জনই চাকুরীর নামে দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকায় থাকতেন বলে পারিবারিক সুত্রে প্রকাশ।

আবুল বশর আবুইল্ল্যা দাবী করেন, তাদের সাথে এই ধরণের কোনো ব্যবসা বাণিজ্য নেই।  হ্নীলা সিকদার পাড়ার মোঃ হোসেনের পূত্র মোঃ ওসমান (২৫) পুলিশের সাথে ইয়াবাসহ বন্দুক যুদ্ধে নেত্রকোনায় নিহত হয়। তার সাথে নাকি আমার ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। সে সম্পর্কে আমার শালা হলেও তাদের সাথে আমার এই ধরণের কোনো ব্যবসা বাণিজ্য নেই। মাদক ব্যবসায়ী আবুইল্ল্যা ভালো মানুষ সাজার জন্য নেত্রকোনা নিহত দুইজনকেও ভালো মানুষ বানাচ্ছে। তার দাবী, মোঃ ওসমান ছিলেন একজন সৌদি প্রবাসী। তিনি নিহত হবার দশদিন আগে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন।

যার পার্সপোট ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আবুল বশরের কাছে আছে বলে উল্লেখ করেন। সে সৌদিতে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করত,,যার মালিক বাংলাদেশের নেত্রকোনার এক ব্যক্তি। সে মালিকের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য নেত্রকোনায় গিয়েছিল। সে নেত্রকোনায় যাওয়ার পরদিন সকালে পুলিশ রাস্তার পাশে আমার শালা মোঃ ওসমানের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায়। পরে আমার শাশুর বাড়ির লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে মোঃ ওসমানের নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরে তার মেঝ ভাই নেত্রকোনায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে লাশটি গ্রহন করে। কিন্তু পুলিশ সে নিহত হবার কোনো কারণ তার মেঝ ভাইকে জানাতে পারেনি। এবং কোনো মাদক মামলাও করেনি। এর আগেও ওসমানের নামে মাদক মামলাত দুরের কথা টেকনাফ থানায় একটি জিডিও ছিলনা। কারণ সে ছিল একজন সৌদি প্রবাসী।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদের নামে মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুইল্ল্যার আস্ফালন!!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ঘটনার পরদিন সারা বিশ্বের মিডিয়ায় এসেছে নেত্রকোনায় বন্দুক যুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করে পুলিশ।লাশের পাশ থেকে পুলিশ ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান জব্দ করা হয়। এঘটনায় নেত্রকোনা থানায় মামলাও হয়েছে।কিন্তু তাদের পার্টনার বশর দাবী করেন কোন মামলা হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কোন জিডি বা মামলা নেই, তারা ভাল মানুষ!।তাহলে নেত্রকোনা থানা পুলিশও কি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে? ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুইল্ল্যা বিভিন্ন ঘটনার অপব্যাখ্যা দিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ও নেত্রকোন থানা পুলিশকে বার বার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়ে পুরো পুলিশ বাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করার সাহস আসলে কোথায় পেয়েছে!।

নিহত দুই জনের বিরুদ্ধে কোন জিডি না থাকলে তারা ভালো মানুষ, আর মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশরের বিরুদ্ধে ২টি হত্যা, পুলিশ আ্যাসল্ট, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ৪টি নিয়মিত মামলা মাথায় নিয়ে সেও ভাল মানুষ। অন্যের জমি দখল, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লালন ও নিরীহ লোকজনকে বিভিন্ন ভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অহরহ। শামলাপুরের একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে সখ্যতা করে আবদুল খালেক নামের একজন নীরিহ ব্যক্তিকে ( মসজিদের জমি দখলে প্রতিবাদ করায়) মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ফাঁসিয়েছে এই ইয়াবা গডফাদার।

অবশ্য জানা গেছে, ২’শ ইয়াবা সহ একজন ব্যক্তিকে আটক করে শামলাপুর ফাড়ির পুলিশ। কিন্তু ২’শ ইয়াবা আটক মামলায় খালেক সহ আরো ৪/৫জনকে পলাতক দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ পেলে তদন্তে নামের এএসপি উখিয়া সার্কেল।

অবশ্য এধরনের ঘটনা তদন্ত করে ইয়াবা আবুল বশরের ইন্দনে আবদুল খালেক ষড়যন্ত্রের শিকার, খালেক নির্দোষসহ পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত ও আরো বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারী পুলিশ সুপারের নিকট একটি তদন্ত প্রতিবেদন দায়ের করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) । উক্ত প্রতিবেদনে এই ইয়াবা আবুল বশরের বিভিন্ন অপকর্মের কথা বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সহকারী পুলিশ সুপার ( উখিয়া সার্কেল) কর্তৃক জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দাখিলকৃত প্রতিবেদনটিও কি মিথ্যা? মাদক কারবারী আবুল বশর এই তদন্ত প্রতিবেদনটি নিয়েও সহকারী পুলিশ সুপারকে মিথ্যার মুখোমুখি করাচ্ছেন নয় কি?

সংবাদ মাধ্যমে জানলাম,  মাদক কারবারী আবুল বশরের নেতৃত্বে ২০১৬ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল সন্ত্রাসী শামলাপুর প্রামের মৃত রশিদ আহমদ (কালুর) ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আবুল বশরকে দুই নাম্বার আসামী করে ঘটনায় জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী। টেকনাফ থানার মামলা নং-১/১৬, যার নাম্বার জি, আর, ১/২০১৬।

ইউনিয়নের শামলাপুরে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজ হত্যা মামলার দুই নাম্বার আসামী বশর ইয়াবার টাকায় মানুষ হত্যার মতো মামলা হতে বাদ যেতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।মোস্তফিজ হত্যা মামলাটি প্রাথমিক ভাবে টেকনাফ থানা তদন্ত করলেও চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় এটা সেটা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। অবৈধ অর্থের দাপটে সেই যাত্রায় মামলার ২ নং আসামী হতে চার্জজসীট হতে বাদ যান। মামলার বাদী তৎসময় আশংকা করেছিল মোটা অংকের টাকা দিয়ে ২ নং আসামী আবুল বশর মামলা থেকে বাদ যেতে পারে। পরে তাকে বাদও দেয়া হয়। এতে আদালতে নারাজি দেন বাদী।

হত্যা মামলাটি দায়ের পর প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির হাতে। আর আবুল বশর এজাহার ভূক্ত দুই নাম্বার আসামী হয়েও আদালত থেকে তিনি কোনো রকম জামিন না নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরাসরি সিআইডির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে বাদ যান। উক্ত চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদন করলে, আদালত আমার নারাজীর দরখাস্ত আমলে নিয়ে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইতে হস্তান্তর করেন।

সেখানেও মাদক ব্যবসায়ী বশরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চার্জশীট থেকে বাদ পড়েন। কক্সবাজার পিবিআইএর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে আবারও নারাজীর দরখাস্ত দিই। আদালত নারাজী গ্রহন করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) কে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন মামলাটি তদন্তনাধীন। সেখানেও মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশর কালো টাকা ব্যবহার করে মামলার চার্জসীট থেকে বাদ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শুধু ইয়াবা ব্যবসা নয়, একজন শিশু তার পিতৃ পরিচয় এখনো পায়নি। ইয়াবা কারবারী আবুল বশর আবুইল্ল্যার কুকামের ফসল। কিন্তু এই শিশুটি কোন পাপ করেনি, নিষ্পাপ হয়ে জন্মেছে!কিন্তু তার জন্মই আজন্ম পাপ হলো! এই রিয়া আজ বাপ নামক মধুর ডাক থেকে বঞ্চিত। পিতৃত্বের দাবী আজ মুল্যহীন। ইয়াবার টাকায় সব অপকর্ম ডাকতে চায় আবুল?
স্ত্রীর দাবী আর সন্তানের পিতৃত্ব দাবীর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্ত কালো টাকার প্রভাবে নিতান্ত গরীব মানুষগুলো অসহায়। টেকনাফ হোয়াইক্যং ঢালার ভেতর ইয়াবা ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে শিশুর মাকে বাড়ি তৈরী করে দিয়েছে, সেটা শুনা গেলেও নিষ্পাপ শিশুটি এখনো পিতার অধিকার পায়নি। এভাবেই আর কতো নারী ইয়াবা কারবারীদের লালসার শিকার হবে, কতো শিশু পিতৃপরিচয়হীন থাকবে???

কোনো দেশের  বৃহৎ জনগোষ্ঠী যদি মাদকাসক্ত হয়, তাহলে সেখানে মাদকের চাহিদা থাকবে৷ যেভাবেই হোক, মাদকসেবীরা মাদক পেতে চাইবে আর পাচারকারীরাও মাদক সরবরাহ করার চেষ্টা করবে৷ কিন্তু উৎপাদন ও চাহিদা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশ নিতে পারেনি৷ তাছাড়া মাদকাসক্তদের  নিরাময় ও পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই, যেটি মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায় বলে সমাজবিদ ও মনস্তত্ববিদরা মনে করেন৷ তাঁদের মতে, শুধু বল প্রয়োগ করে নয়, মাদক নির্মূলের জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক উদ্যোগ৷

মাদকাসক্তির কারণ খুজে বের করা জরুরি৷ মানুষ কেন মাদকাসক্ত হচ্ছে, এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো কী কী এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে তাদের ফেরানো সম্ভব, তা গবেষণা করে বের করা দরকার৷ প্রয়োজন একটি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সবাইকে সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা৷ বাংলাদেশ এর কোনোটাই আগে হয়নি৷ আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন৷

সরকার নিশ্চয়ই এক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেবে৷ পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন্সের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে৷ সরকারের উচিত, একটি সঠিক তালিকা তৈরি করে নিরপেক্ষভাবে অভিযান শুরু করা, যে অভিযানে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা থাকবে এবং প্রকৃত মাদক চোরাচালানকারীরা রেহাই পাবে না৷

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel