শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
যাত্রীবেশে উঠে চকরিয়ায় মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি, দুইজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫ খুলে যাবে উপকূলীয় চার উপজেলার সম্ভাবনার দূয়ার মানুষকে অবহেলা-তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না: প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ায় অবৈধ বসতি গুঁড়িয়ে দিয়ে এক একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেয়া হবে: জেলা প্রশাসক লকডাউন আর না, সচেতন হোন: সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন কক্সবাজারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা নিয়ে জেলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সংলাপ যানজট নিরসনের পাশাপাশি মডেল সড়ক হবে কক্সবাজারে শিশু ধর্ষনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

অপর্ণাদের জবাবে মোদীর সমর্থনে কঙ্গনাসহ ৬১ জনের পাল্টা চিঠি

সিসিএন
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৯
  • ১১৬ বার পঠিত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-

ভারতজুড়ে চলতে থাকা গণপিটুনির ঘটনা ও ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়ার প্রবণতার প্রতিবাদে দেশটির ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লেখেন। তিন দিন আগে লেখা ওই চিঠির জবাবে এবার ৬১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পাল্টা চিঠি লিখলেন। এই খোলা চিঠিতে আগের চিঠির প্রেরকদের আক্রমণ করা হয় ‘নির্দিষ্ট ক্ষোভ, মিথ্যা বর্ণনা এবং পরিষ্কার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব’-এর অভিযোগ তুলে।

এই নতুন চিঠিটি লিখেছেন সেন্সর বোর্ডের মুখ্য প্রসূন যোশী, বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত, চিত্র পরিচালক মধুর ভান্ডারকর, অভিনেতা বিবেক অগ্নিহোত্রী এবং ধ্রুপদী নর্তক ও রাজ্য়সভার সদস্য সোনাল মানসিং।

ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘একটি খোলা চিঠি যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই এবং লেখা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে, সেটি আমাদের বিস্মিত করেছে। উনপঞ্চাশ জন স্বঘোষিত ‘অভিভাবক’ ও দেশের ‘চৈতন্যের রক্ষক’ তাদের নির্দিষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পরিষ্কার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও উদ্দেশ্য দেখিয়েছেন।’

সেই চিঠিতে আরও লেখা হয়, ‘আমাদের মতে নিচে স্বাক্ষর করা এই পত্র একটি মিথ্যে বর্ণনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অক্লান্ত প্রচেষ্টাকে অনর্থকভাবে দেখাতেই চেষ্টা। এই চিঠির স্বাক্ষরকারীরা অতীতে নীরব ছিল যখন উপজাতি এবং প্রান্তিক মানুষরা নকশাল সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছিল। তখন তারা নীরব ছিল যখন ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।’

মঙ্গলবার, ৪৯ জন বিশিষ্ট জন যাদের মধ্যে রয়েছেন স্বনামধন্য অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালকরা। অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও মণি রত্নম এবং ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ। দেশজুড়ে ঘৃণাজনিত অপরাধ ও সংখ্যালঘুদের প্রতি নৃশংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে উদ্বেগ ‌প্রকাশ করেন তারা।

নতুন চিঠির লেখকরা মঙ্গলবারের (২৩ জুলাই) পত্রপ্রেরকদের কড়া সমালোচনা করেন সরকারের নিন্দা করার জন্য। তারা ওই চিঠির বক্তব্যের বিরোধিতা করে দাবি করেন, মোদী জমানাতেই সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতাসহ সরকারের নিন্দা করতে পারছে আমজনতা।

মঙ্গলবারের লেখা চিঠিতে লেখা হয়েছিল, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী…মুসলিম, দলিতসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে মারার ঘটনা শীঘ্রই বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য দেখে অবাক হয়েছি, সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৬-এ নৃশংস এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা ৮৪০-এর কম নয়। দোষীদের শাস্তি দেওয়ার হারও নির্দিষ্টহারে কম।’

অপর্ণা সেন বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের মানুষকে পিটিয়ে মারার ঘটনা নয়, ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে যে কোনও মানুষকেই পিটিয়ে মারার ঘটনা নিয়েই তিনি উদ্বিগ্ন। তার কথায়, ‘মানুষকে পিটিয়ে মারার ঘটনা আমাদের কাছে উদ্বেগের। আমাদের আপত্তি পিটিয়ে মারার ঘটনায়, তিনি মুসলিম হোক বা হিন্দু’। বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জুন মাসেই ঝাড়খণ্ডে তবরেজ আনসারির হত্যার ঘটনার নিন্দা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই ধরনের সমস্ত অপরাধকে একই ভাবে বিচার করা হবে। গত ১৯ জুলাই আরেক মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলাতে চেয়ে মারধর করা হয়। এক সপ্তাহ আগে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার এক মাদ্রাসার ছাত্রদের ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বলে মারধর করার ঘটনা ঘটে। মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটির মুসলিমদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন।

৪৯ জনের লেখা ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তরফে এও বলা হয়েছিল, ‘আমাদের চিঠির কোনো রাজনৈতিক রং নেই। আমরা শুধু তার (প্রধানমন্ত্রী) হস্তক্ষেপ চাই।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই চিঠির বক্তব্যকে সমর্থন করে লেখেন, বক্তব্য ‘প্রায় সঠিক’।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel