মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

টেকনাফ সীমান্তের শাহজাহান চেয়ারম্যান বেনাপোল সীমান্তে আটক!

সিসিএন
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৯
  • ১১৫ বার পঠিত
শাহজাহান চেয়ারম্যান

সিসিএন রিপোর্ট। 

টেকনাফ সীমান্তের সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বিভাগের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী মোস্ট ওয়ান্টেড শাহজান মিয়া (৩২) ভারতে পালানোর সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই ) বেনাপোল সীমান্তে আটক হয়েছে। তিনি মন্ত্রনালয়ের ৯নং তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবাকারবারী সাবেক বিএনপি নেতা টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নব্য আওয়ামীলীগ জাফর আহমদের পুত্র। যশোর বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের বরাতে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। টেকনাফ থানা পুলিশের একটি টিম ইতিমধ্যে আটক শাহজাহান চেয়ারম্যানকে টেকনাফ নিতে যশোরের উদ্দোশ্যে যাত্রা করেছেন বলেও জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র। তার বিরুদ্ধে ৫টি অস্ত্র ও মাদক মামলা থাকার কথা জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এক সময়ের টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ত্রাস খ্যাত প্রভাবশালী নেতা, উপজেলার সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকার বাসিন্দা পিতা জাফর আহমদের সাথে ছাত্র দলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলো। ছাত্র দলের রাজনীতিতে জড়িত থাকা কালীন সময়ে স্থানীয় আওয়ামী পরিবারের নেতা, কর্মী, সমর্থকদের উপর পিতা-পুত্র চার জনের বেপরোয়া নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক নেতাকর্মী পুঙ্গত্ব বরন করেছে, আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতেও বাধ্য হয়েছিলেন। গত বিএনপি আমলে টেকনাফ স্থল বন্দর কেন্দ্রিক দেশ ব্যপী ইয়াবা ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে জাফর ও তার ছেলেদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তথ্য উঠে আসে বিভিন্ন অনুসন্ধানী মাধ্যমে। ওয়ান ইলাভেনের সময় যৌত বাহিনীর হাতে আটক হয়ে পিতা জাফর আহমদ কারা অভ্যান্তরীন থাকা কালীন (উখিয়া-টেকনাফ)র সাবেক এমপি বদির সাথে নিবিড় সখ্যতা গড়ে উঠে। ২০০৮ সালে ক্ষমতার তরী বদলের পর এমপি বদির হাত ধরে জাফর আহমদ আওয়ামী রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকরে। অনুপ্রবেশেরপর কৌশলে এমপি বদিকে বাগেএনে ত্যাগী নেতাদের পিছনে ফেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে উড়ে এসে জুড়ে বসে। পিতার পিছু ধরে তিন পুত্র ও যুবলীগ, শ্রমিকলীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে জায়গা করে নেয়। শাহজান উপজেলা শ্রমিকলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাত্তানাদিয়ে অবৈধ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ইয়াবা কারবার শুরু করে। হাবিব শাহ নামক এক ব্যক্তিকে ব্যবহার করে ভূমি জালিয়াতি, জবর দখল বানিজ্য চালুকরে। তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রাস্তায় ওপেন ছাত্র ছাত্রলীগের মিছিল ও সভাপন্ড করে নেতা কর্মীদের মারধর করার মতো নজিরও রয়েছে। পরবর্তীতে এমপি বদির আশির্বাদে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে ২০১৪ সালে তার পিতা জাফর আহমদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। পিতার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে এমপি বদির নেকনজরে ২০১৬ সালে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় শাহজান। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আরো বেপরোয়া ভাবে অপর সহোদর মোস্তাক, দিদার ও ইলিয়াছ মিলে দেশ ব্যাপী পারিবারিক ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে নামে বেনামে পিতাপুত্র মিলে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। অবৈধ টাকা আর ক্ষমতায় বেড়ে যায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা ও বিভিন্ন মিথ্যে মামলা। এরা পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয়ের বেশ কিছু শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সরাসরি আশ্রয় পশ্র‍য় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার অপর সহোদর মান্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত দিদার মিয়া আত্বসমর্পন করে কারাগারে রয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ও স্থানীদের ধারনা বড় ভাই মোস্তাক নিরুদ্ধেশ হওয়ার পেছনে এই শাহজাহান চেয়ারম্যানের হাত থাকতে পারে।

গেলো বছর মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে পিতা পুত্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকটা ওপেন চলাফেরা করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ গেলো উপজেলা নির্বাচনে পিতা পরাজিত হওয়ার পর থেকে শাহজান চেয়ারম্যান আত্মগুপনে চলে যায়। গুপনে বিদেশে পালিয়ে যেতে চাইলেও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার কারনে এয়ারপোর্ট এক্সিট পাস দেয়া হয়নি। তাছাড়া চলতি বছর দুদকের দূর্নিতি মামলায় তার মা-বাবা গ্রেফতার এড়াতে উভয়ের পলাতক রয়েছে বলে নির্ভর‍যোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel