শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কালারমারছড়ার গৃহবধূ আফরোজা খুন: স্বামীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শপিংমলগুলোতে পূজোর আমেজ, জমে উঠেছে বেচাকেনা চকরিয়ায় অপহৃত শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী আটক ‘প্রাপ্তি কক্সবাজার লিঃ’ সংস্থার নামে সদস্যদের সাড়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কোনো শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ না দেয়ার তাগিদ সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কারবারি নিহত : ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার রামুতে মাটি কাটার সময় পাহাড় ধ্বসে ২ জন নিহত সৈকতে বাতিলকৃত প্লটে তরঙ্গ রেস্তোরাঁ’র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ রামুর গর্জনিয়া যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলা রামুতে ভুয়া ওয়ারিশ সনদে রেলের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিজয়ের মাস: ফিরে দেখা ৯ ডিসেম্বর

সিসিএন
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৩২ বার পঠিত

একাত্তরের ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গোটা দেশের মানুষ চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। দেশের অধিকাংশ স্থানে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। বাংলা, উর্দু ও ইংরেজি অনুবাদ সম্বলিত প্রচারপত্রও ফেলা হয়। এক ভাষণে হানাদার বাহিনীর অফিসারদের ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হয় অস্ত্র সংবরণ কর নতুবা মর। তাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, সময় থাকতে আত্মসমর্পণ করলে পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবন্দীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।
জেনারেল মানেকশ’র এ আহবান হানাদারদের মনোবল আরো ভেঙে দেয়। দিনাজপুরের কান্তানগর এলাকায় ৬ ডিসেম্বর থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যৌথ বাহিনীর শুরু হওয়া ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ৯ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পর যৌথ বাহিনী এখানে শক্তি ক্ষয় না করে কান্তানগরকে পাশ কাটিয়ে দিনাজপুর শহরের দিকে অভিযান শুরু করে। হিলিতেও পাক হানাদারদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। কুষ্টিয়া ও খুলনা ছাড়া পশ্চিম সেক্টরের পুরোটাই শত্রুমুক্ত হয়। যৌথ বাহিনী কুমারখালিতে মধুমতি নদী অতিক্রম করার লক্ষ্যে বড় ধরনের রিভার ক্রসিং অভিযানের প্রস্ততি শুরু করে। যৌথ বাহিনীর অপর একটি দল ঝিনাইদহ থেকে সকাল বেলা অভিযান শুরু করে বিকেল নাগাদ কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছে যায়। এখানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরুর পরদিন থেকে হানাদাররা কুষ্টিয়া ছেড়ে পালাতে শুরু করে। এদিন জামালপুর শহরকেও মুক্ত করার লড়াই অব্যাহত থাকে। যৌথবাহিনী ময়মনসিংহের দিকে অগ্রসর হয়ে ফুলপুরে পৌঁছে যায়। মৌলভীবাজার জেলা লাকসাম, চাঁদপুর, পীরগঞ্জ, পলাশবাড়ী শত্রুমুক্ত হয়। স্থলপথে ঢাকার দিকে এগিয়ে যাওয়া যৌথবাহিনীর দলটি রাতে মেঘনা নদীর পূর্ব পাড়ে লালপুর দখল করে সেখান দিয়ে নদী অতিক্রম শুরু করে।
নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা : আজ ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পাক হানাদার মুক্ত দিবস। এ দিন নেত্রকোনা শহরকে পাক হানাদার মুক্ত করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের চর্তুমুখী আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী শহর ছেড়ে পালিয়ে যাবার পথে মোক্তারপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন কৃষি ফার্মের কোনায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদারদের মরণপন লড়াই হয়। এ সম্মুখ সমরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার (আবু খাঁ), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ এবং মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক (সাত্তার) শহীদ হন।
দাউদকান্দি উপজেলা সংবাদদাতা : আজ ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সনের ৮ ডিসেম্বর পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাতের আধারে লঞ্চযোগে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। রক্ত ঝরা সেই উত্তাল দিনে দামাল ছেলেরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে। নিজ থানা শত্রুমুক্ত করতে একাত্তরের ১৬ অক্টোবর রাতে কাজী আলম, আলতাব ও হাবিবুল্লাহ খান ওই তিন কোম্পানির মুক্তিসেনারা ময়মনসিংহ, ভৈরব রেল লাইনে মাইজহাটি ব্রিজটি ডিনামাইট ছুড়ে বিধ্বস্তসহ টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করার পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুরের কটিয়াপুরি ব্রিজটি বিধ্বস্ত করতেই ভোর হয়ে যায়।
হাটহাজারী উপজেলা সংবাদদাতা : হাটহাজারী উপজেলার উত্তরে নাজিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম রণাঙ্গন নাজিরহাট পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ওই দিন ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হঠে যায়। পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পর শুরু হয় মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আনন্দ উল্লাস।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel