বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বুধবার থেকে গণপরিবহনে ভাড়া ৬০ শতাংশ কার্যকর মহেশখালীতে ৬লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার উখিয়া-টেকনাফ থেকে ৬ষ্ঠ দফায় ভাসানচরের পথে ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা পেকুয়ায় পানিতে ডুবে রোজাদার যুবকের মৃত্যু চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র প্রার্থী জিয়াবুলের পথসভায় মানুষের ঢল রামুর কচ্ছপিয়ায় যুবলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হেফাজতের হরতাল ঠেকাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনভর মাঠে এমপি জাফর আলম উগ্র মৌলবাদীদের রাস্তায় নামিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না: মেয়র মুজিব রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় কক্সবাজারে ৩ কাউন্সিলর গ্রেফতার চকরিয়া পৌর ভোট: মেয়র প্রার্থী জিয়াবুলের ‘জনতার ইশতেহার’ কমসূচি শহরজুড়ে প্রশংসা

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় চকরিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত দু’পরিবার

সিসিএন
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ১১৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজ আহমদ ও মো.বাবুল। দু’জনই দিনমজুরের কাজ করতো। এতে যা আয় হতো তা দিয়ে মোটামুটি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিলো দিন। কিন্তু একটি দূর্ঘটনা সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। সংসারে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। বুধবার বাজার-সদায় করে লোহাগাড়া থেকে চকরিয়ার নিজ বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও ফিরলেন লাশ হয়ে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বুড়ির দোকান এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও লেগুনা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় প্রায় ছয় যাত্রী। তাদের মধ্যে ছিলো সিরাজ ও বাবুলও। বৃহস্পতিবার সকালে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে চকরিয়া উপজেলার কোণাখালী ইউনিয়নের তাদের নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন সকালে নামাজে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহতদের নিকটত্মীয় নাজিম উদ্দিন নাজু বলেন,  নিহত সিরাজ ও বাবুল দুজনই দিনমজুরের কাজ করতেন। সিরাজের স্ত্রী ও তিন ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক ছেলে বিদেশ প্রবাসী। অন্য দুই ছেলে ও মেয়ে বাড়িতে থাকেন। ছেলেরাও দিনমুজরের কাজ করে সংসার চালান। এতে মোটামুটি ভালোই চলছিলো তাদের সংসার ।
একই এলাকার বাসিন্দা এ.জে নেজাম উদ্দিন বলেন, মো. বাবুলও দিনমজুরের কাজ করতো। কাজের কারণে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতো। তার এক স্ত্রী ও ছোট ছোট এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের পরিবারের রোজগার করার মতো আর কোন লোক নেই। সন্তানরা তাদের প্রিয় বাবাকে হারিয়ে নির্ভাক হয়ে চেয়ে আছন। তারা বুঝতে পারছেনা তাদের বাবা আর বেঁচে নেই। আর তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে কোন শান্ত করা যাচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর পর মূর্ছা যাচ্ছেন। পাড়া-প্রতিবেশিদেও শত শান্তনাও কোন কাজে আসছেনা।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার দুইজন পার্শ্ববতী লোহাগাড়ায় যান দিনমজুরের কাজ করতে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় তাদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে তারা বাড়িতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেই। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল বুধবার বিকেলে লোহাগাড়া স্টেশন থেকে যাত্রীবাহি লেগুনা পরিবহণের একটি গাড়িতে উঠে। গাড়িটি চকরিয়ার বুড়ির দোকান এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা  দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় তারা দুজন।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের বাবাকে হারিয়ে কেউ বিলাপ ধরে কান্না করছেন। আবার স্বামী হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রীরা। এই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পাড়া-প্রতিবেশিরা চেষ্টা করছেন তাদের নানাভাবে শান্তনা দেয়ার। কিন্তু শান্তনাই শুনছেনা তারা। একে অপরকে জড়িয়ে কান্নাকাটি করছেন। তাদের কান্নায় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যেও অবতারণা হয়ে উঠেছে। একইভাবে অন্য চার পরিবারও চলছে শোকের মাতম।
এদিকে, দূর্ঘটনার কারণ জানতে চাওয়া হয় চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.আনিসুর রহমানের কাছে। তিনি বলেন, যখন দূর্ঘটনাটি ঘটেছে তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। যার কারণে কাভার্ডভ্যান ও লেগুনা গাড়ির চালকরা কে কাউকে দেখতে পারেনি। যার কারণে মর্মান্তিক দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় গাড়ি দুটি পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় লেগুনার ছয় যাত্রী। আহত হয় দুই যাত্রী। নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় চিরিংগা হাইওয়ে ফাঁড়ির একজন কর্মকর্তা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে দুই গাড়ির চালক ও হেলপারকে আসামী করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ দেখভাল করছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বুড়ির দোকান এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহি লেগুনা পরিবহণের একটি গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনার চালক ও হেলপারসহ ছয়যাত্রী নিহত ও দুই যাত্রী আহত হয়।
নিহতরা হলেন- লেগুলা চালক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা বড়হাতিয়া এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে মো.মিনহাজ , একই উপজেলার পদুয়ার মিঠারদিঘী এলাকার লেগুলার হেলপার মোহাম্মদ শহীদ, চকরিয়া উপজেলার কোণাখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হাসান আলী পাড়ার আমির হামজার ছেলে মোহাম্মদ বাবুল , একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যম কোণাখালীর মৃত আলী মিয়ার ছেলে সিরাজ আহমদ, একই উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বৃন্দাবনখিল এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে বদিউল আলম ও লামা উপজেলার আজিজনগর ৩নং ওয়ার্ডের সন্দীপ পাড়ার আবদুল ওয়াজেদের ছেলে মো.আল-আমিন।
আহতরা হলেন, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার অয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো.আইনুণ ও চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের করম মুহুরী পাড়ার গুরা মিয়ার ছেলে মো.রায়হান । তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel