সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প: প: কর্মকর্তা ডা. শাহবাজকে শোকজ নোটিশ

সিসিএন
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০
  • ৪৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির অবহেলায় কোটি টাকা ফেরত যাওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজকে বদলি করা হয়েছে। চিকিৎসা ও শৈল চিকিৎসা সরঞ্জামাদি খাতে অর্থ পাওয়ার পরও এম এস আর ক্রয় না করার ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করেছে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিস।

গত ৫ জুলাই বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘আমার কক্সবাজার.কমে’ ‘টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির অবহেলা, ফেরত গেছে চকরিয়া হাসপাতালের বরাদ্দের কোটি টাকা’ শিরোনামে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর টনক নড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বির্তকিত ডা. মোহাম্মদ শাহবাজকে গত কয়েক দিন ধরে বদলির গুঞ্জনের পর তাকে লামায় বদলি করা হলো।

তাঁর স্থলে লামার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হককে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৫জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক প্রশাসন ডা. মো. বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। আগামী তিনদিনের মধ্যে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে যোগদান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সাথে (১৪ জুলাই) কক্সবাজার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্মারক প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে কি কারণে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের চিকিৎসা ও শৈল চিকিৎসা সরঞ্জাম (এমএসআর) ক্রয় না করে কেন ফেরত প্রদান করেছে সেই বিষয়ে সু-ষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। যদি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, হাসপাতালের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজের অবহেলায় গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকা ফেরত চলে যায়। এরপর থেকে চকরিয়া জনগণের মাঝে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নজরে আসলে ডা. মোহাম্মদ শাহবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। শোকজ নোটিশ দিয়ে বদলির আদেশ প্রদান করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে ছয়টি গ্রুপের ৬টি সরঞ্জামের উপর প্রায় কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ও টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি। ২০২০ সালের মে মাসের ১১ তারিখ ঠিকাদাররা টেন্ডার আহ্বান করেন। এতে অন্তত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও স্থানীয় মিলে ১০জন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা না পাওয়া এবং কাগজপত্র সঠিক না অজুহাতে ওই টেন্ডার বাতিল করে হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি।

এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে আবারও দ্বিতীয় বারের মতো দরপত্র আহবান করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জুন আবারও টেন্ডার ড্রপ করেন ঠিকাদাররা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। কিন্তু ওই টেন্ডারও নানা অজুহাতে বাতিল করে দেন হাসপাতাল মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত চলে যায় ।

এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ শাহবাজকে লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। এর স্থলে লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদুল হককে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করার একটি প্রজ্ঞাপনের চিঠি পৌঁছেছে।’

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে পরিচালক ডা. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত বদলির এক প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি। আগামী সোমবার যোগদান করবো বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমি আগেও চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চকরিয়াবাসীকে স্বাস্থ্যখাতে পরিপূর্ণ সেবা দিতে শতভাগ চেষ্টা করব।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel