শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
যাত্রীবেশে উঠে চকরিয়ায় মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি, দুইজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫ খুলে যাবে উপকূলীয় চার উপজেলার সম্ভাবনার দূয়ার মানুষকে অবহেলা-তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না: প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ায় অবৈধ বসতি গুঁড়িয়ে দিয়ে এক একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেয়া হবে: জেলা প্রশাসক লকডাউন আর না, সচেতন হোন: সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন কক্সবাজারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা নিয়ে জেলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সংলাপ যানজট নিরসনের পাশাপাশি মডেল সড়ক হবে কক্সবাজারে শিশু ধর্ষনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

মাতারবাড়ি দ্বীপবাসীর দিন কাটছে ‘শঙ্কায়’

সিসিএন
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ৩৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

একদিকে করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক নৈতিবাচক প্রভাব, অপরদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গ্রাম প্লাবিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন উপকূলীয় মাতারবাড়ির জনগণ। এছাড়া চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও সম্মুখীন হতে পারে তারা। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে জোয়ারের পানিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলাদি ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

বেড়িবাঁধহীন, শঙ্কায় এবং নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এখানকার মানুষ। বেড়িবাঁধ যেন স্বপ্নই রয়ে যাবে মাতারবাড়িবাসীর। এটি নিয়ে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে গড়ে উঠা মাতারবাড়ি ইউনিয়নকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রতিরোধে নির্মিত প্রায় ৮ কিলোমিটারের বেড়িবাঁধটি উজানটিয়া থেকে সাইরার ডেইলের জালিয়াপাড়ার কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। বেড়িবাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাইরার ডেইল, জালিয়াপাড়া, নয়াপাড়া ও সাইটপাড়া গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে জালিয়া পাড়া গ্রামে বেড়িবাঁধ না থাকায় অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে গ্রামবাসীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ ঘেঁষা এলাকায় কোন প্যারাবন নেই। তবে প্যারাবন সৃজনের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। মূলত প্যারাবন না থাকায় এবং সংস্কারের অভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী মাটির ঘরগুলো হুমকির মুখে প্রতিনিয়ত। যেকোন সময় দেওয়াল ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে তাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। এতে অনেকের গৃহপালিত পশুর মৃত্যু হয়েছে । এছাড়াও প্রতিদিন জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় চরম ক্ষতি মুখে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

সাইরার ডেইল জালিয়াপাড়ার ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ‘গ্রামে ছোট মুদির দোকান করেই সংসার চালান তিনি। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে প্লাবিত হয়ে দোকানের একটি অংশ ভেঙ্গে যায়। যা বারবার মাটি দিয়ে ভরাট করতে হয়। অনেকেই একই সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।’

একই গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, ‘বেড়িবাঁধ না থাকায় বাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তারা এখন নিঃস্ব। তাই বেড়িবাঁধ স্থাপনের জোর দাবী এলাকাবাসীর।’

অপরদিকে সাইটমারা গ্রামের মো. হেফাজ উদ্দীন, মোহাম্মদ নুর হোছাইন ও রাশেদা বেগম অভিযোগ করেন, তারা চলতি বর্ষা মৌসুমে যে পরিমান ক্ষতির মুখ পড়ছে তাতে ভবিষ্যতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। গ্রামে জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ দিলেও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে গ্রাম প্লাবিত হয়। তাই নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ স্থাপনের প্রযোজনীয়তা বোধ করেন  তারা।

এ-ব্যাপারে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভাবে গ্রামের ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু তাতে ক্ষতির মুখ থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাতারবাড়ি দ্বীপটি রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধের প্রয়োজন। তাই স্থায়ী বেড়িবাঁধ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর অবগত করা হয়েছে। এটি মাতারবাড়ীবাসীর স্বপ্ন।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel