শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
যাত্রীবেশে উঠে চকরিয়ায় মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি, দুইজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫ খুলে যাবে উপকূলীয় চার উপজেলার সম্ভাবনার দূয়ার মানুষকে অবহেলা-তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না: প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ায় অবৈধ বসতি গুঁড়িয়ে দিয়ে এক একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেয়া হবে: জেলা প্রশাসক লকডাউন আর না, সচেতন হোন: সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন কক্সবাজারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা নিয়ে জেলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সংলাপ যানজট নিরসনের পাশাপাশি মডেল সড়ক হবে কক্সবাজারে শিশু ধর্ষনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

তিন বছরেও অগ্রগতি নেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে

সিসিএন
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৩ বার পঠিত

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার সরকারের নানা টালবাহানায় আশ্রিতদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নিজ দেশে ফেরার আগ্রহ থাকলেও প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তায় চরম হতাশায় রোহিঙ্গারাও।

কক্সবাজারের মানুষদের দাবি, সময় যতোই গড়াচ্ছে ততোই রোহিঙ্গাদের কারণে বাড়ছে নানামুখী সংকট। আর এ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার লক্ষে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট উখিয়ার রহমতের বিল। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও টেকনাফমুখী ঢল নামে। এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। অনুপ্রবেশের তিন বছর হলেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংস্থ ক্যাম্প নম্বর ৪। রাস্তার পাশে দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছেন তিন বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা হামিদ হোসেন। সাথে পাশে বসে তার দুই বন্ধু ইলিয়াছ ও ওয়ারেচ নিজ দেশে ফিরে না যেতে পারায় চরম হতাশার কথা বলছেন একে অপরকে।

রোহিঙ্গা মো. হামিদ হোসেন বলেন, মিয়ানমার সরকার নির্যাতন করেছে বিধায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করি। বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে; তাই আমরা এখনও এখানে থাকতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের নিজ দেশে যেভাবে ভালভাবে চলতে, খেতে পেরেছি; তা কিন্তু এখানে পারছি না। কারণ এটা আমাদের দেশ নয়। এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। কারণ নিজ দেশের জন্য খুবই খারাপ লাগছে।

রোহিঙ্গা হামিদ হোসেন বলেন, মিয়ানমার থেকে কুতুপালং এসেছি ৩ বছর হল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে পারলাম না। যদি বিশ্ববাসী মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে কোন ধরনের ব্যবস্থা করে আমাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করত; তাহলে আমরা মিয়ানমারে নিজ ভিটে-মাটিতে ফিরে যেতাম।

এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা সংকট, আশংকা দেখা দিচ্ছে সংঘাতের। এরইমধ্যে উজাড় হয়েছে বন, পাহাড়, কৃষি জমি ও কাজ হারাচ্ছে স্থানীয় শ্রমিকরা। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার দাবি সুশীল সমাজের।

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে মায়াকান্না ছিল; সেটি ৩ বছর পরে এসে দেখছি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেকটায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে তেমন কোন আলোচনা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই অবস্থা যদি চলমান থাকে তাহলে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাস করা দুরহ হয়ে পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা।

অবশ্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, আমরা যাই করি না কেন আমাদের প্রধান ও মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যাবাসন। এই প্রত্যাবাসন যাতে অতি শিগগিরই শুরু করা যায় এবং রোহিঙ্গাদের স্ব-সম্মানে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে পারি এই ব্যাপারে সরকার সবর্দা সচেষ্ট।

উল্লেখ্য, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ২০১৮ সাল থেকে কয়েক দফায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৯ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা ছাড়া মিয়ানমার সরকার কাউকে ফেরত নেয়নি আজও।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel