মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

নোঙর এ নির্যাতনের শিকার মানসিক রোগী

সিসিএন
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১২ বার পঠিত

কয়েকমাস ধরে ব্রেইন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক অসুস্থ বোধ করছিলেন মিনহাজ। ঔষধ সেবন ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য অভিভাবকরা তাকে ভর্তি করান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নোঙর এ। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন-চিকিৎসা ও মানসিক সেবার পরিবর্তে মিনহাজের উপর চালানো হয়েছে বর্বরোচিত নির্যাতন।

কক্সবাজার শহরের পশ্চিম লারপাড়া বাইপাস সড়কের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নোঙর এর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মিনহাজুল আলম মুন্না (২৮) রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের শহীদুল আলমের ছেলে।

মিনহাজের মা হালিমা বেগম জানিয়েছেন, তার ছেলে মিনহাজ নোঙর কেন্দ্রে গত ৩ জুন থেকে ১ মাস ২৭ দিন ভর্তি ছিলো। ঔষধপত্রও তাকে নিয়মিত খাওয়ানো হতো না। এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে ডাক্তার-নার্স দেখেনি। উল্টো কেন্দ্রের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ কয়েকজন কর্মচারি মিলে মিনহাজকে হাত-পা বেধে মারধর করতো।

কেন্দ্র ভবনের আবর্জনা পরিস্কার করা, ড্রেনের ময়লা ও মৃত পোকামাকড় হাত দিয়ে পরিস্কার করতে হতো। হাত ধোয়ার জন্য বাথরুমে কোন সাবান রাখা হতো না। দেওয়া হতো নিম্নমানের বাসি খাবার। এমনকি তাকে অন্ডকোষের সাথে পানির বোতল বেধে দিয়ে ২ ঘন্টার দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিলো।

বাবুল এবং সেখানকার স্টাফ মুজিব মিলে মিনহাজকে দিয়ে লাকড়ী ও ভারী আসবাবপত্র আনা-নেওয়া করাতো। কম্বল থেরাপির নামে তাকে উলঙ্গ করে কম্বল দিয়ে চাপ দিয়ে মারধর ও যৌন নির্যাতন করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল ও সেখানকার স্টাফ উখিয়ার কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা হাবিব। এছাড়াও আরো বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। মিনহাজের মাথা ও পায়ের কনুই সহ কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

মিনহাজের বাবা শহীদুল আলম বলেন, তার ছেলে ব্্েরইন এর সমস্যায় আক্রান্ত। তাকে সেখানে ভর্তি করিয়েছিলাম কেবল ঔষধ খাওয়াবে ও মানসিকভাবে তারা প্রশান্তি দেবে-নোঙর কর্তৃপক্ষের এমন আশ^াসে। বাস্তবে এর কিছুই করেনি। উল্টো তারা আমার অসুস্থ ছেলেটাকে নির্যাতন করে আরো বেশী অসুস্থ ও অর্ধমৃত করে দিলো। অসুস্থ ছেলেকে এমন বর্বর নির্যাতন মানুষ করতে পারে তা ভাবতেও পারছিনা।

জানা গেছে, ১ মাস ২৭দিন পর গত ১ আগষ্ট পবিত্র ঈদুল আযহার দিন কক্সবাজার শহরে বসবাসরত নিকটাত্মীয় মিনহাজের জন্য কোরবানীর রান্না করা মাংস নিয়ে নোঙর কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে উকি দিয়ে বারান্দায় শারীরিকভাবে মিনহাজ অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষনিক মিনহাজের স্বজনরা সেখানে ছুটে যান এবং ওইদিন রাতে মিনহাজকে সেখান থেকে নিয়ে যান। পরে গুরতর অসুস্থ দেখে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত নোঙর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, মিনহাজের উপর নির্যাতনের বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। একজন স্টাফ মিনহাজকে নগ্ন করেছিলো। বিষয়টি জানার পর ওই স্টাফকে নোঙর কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে কাউকে মারধর বা নির্যাতন করা হয় না। তবে কিছু কায়িক শ্রমের কাজ আছে। যা মানসিক ও শারীরিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে করানো হয়।

নোঙর এর নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ জানিয়েছেন-বিষয়টি তিনি জানার পর মিনহাজের মায়ের সাথে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে কেন্দ্রের কারো সম্পৃক্ততা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, এখানে কাউকে মারধর বা নির্যাতন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel