বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বুধবার থেকে গণপরিবহনে ভাড়া ৬০ শতাংশ কার্যকর মহেশখালীতে ৬লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার উখিয়া-টেকনাফ থেকে ৬ষ্ঠ দফায় ভাসানচরের পথে ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা পেকুয়ায় পানিতে ডুবে রোজাদার যুবকের মৃত্যু চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র প্রার্থী জিয়াবুলের পথসভায় মানুষের ঢল রামুর কচ্ছপিয়ায় যুবলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হেফাজতের হরতাল ঠেকাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনভর মাঠে এমপি জাফর আলম উগ্র মৌলবাদীদের রাস্তায় নামিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না: মেয়র মুজিব রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় কক্সবাজারে ৩ কাউন্সিলর গ্রেফতার চকরিয়া পৌর ভোট: মেয়র প্রার্থী জিয়াবুলের ‘জনতার ইশতেহার’ কমসূচি শহরজুড়ে প্রশংসা

রামুতেও এক বাড়িতে পুলিশের নজিরবিহীন ভাঙচুর, মুখ খুলেছে ভোক্তভোগী

সিসিএন
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৭ বার পঠিত

রামুতে দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় একটি বসত বাড়িতে গভীর রাতে নজিরবিহীন ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে পুলিশ। প্রবেশ গেইট, কাঠের আসবাব, মোটর সাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, রান্না ঘর, চুলা, বাথরুম, কাঁচের সামগ্রী সহ বাড়ির সকল কিছুই ভেঙ্গে তছনছ করার ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন বাড়িটির সদস্য এবং পুরো এলাকাবাসী।

ভাংচুর শেষে গৃহকর্তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে আটকের একদিন পর ৯৫টি ইয়াবাসহ একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওমর আলী সওদাগর পাড়ার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্যা আরেফা বেগমের বাড়িতে গত ২৯ জুলাই রাত ২টায় এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ৩১ জুলাই দুপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শত শত এলাকাবাসী। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলার শিকার কলেজ ছাত্রের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক ইউপি সদস্য আরেফা বেগম জানিয়েছেন, ওইদিন রাতে হঠাৎ ভাংচুরের শব্দ শুনে বাড়ির সদস্যরা দেখতে পান মুখে মাস্ক ও সাদা পোষাক পরিহিত একদল লোক বাড়ির গ্রিল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে বেপরোয়াভাবে ভাংচুর চালাচ্ছে। তারা প্রথমে ডাকাত ভেবেছিলেন। পেছনে স্থানীয় পরিষদের চোকিদার শামসুকে দেখে বুঝতে পারেন ভাংচুরকারিরা পুলিশের সদস্য।

এসময় হামলাকারি রামু থানার এসআই জয়নাল আবেদিন, এসআই মংছাই মার্মা ও এএসআই একরাম সহ কয়েকজন তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছেলেকে ইয়াবার মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেন। তিনি তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত নয় মর্মে জানিয়ে টাকা দিতে অপারগতা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা ফের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। ভাংচুর চলাকালে বাড়িতে বেড়াতে আসা তার মেয়ে ও ছোট শিশুরা (নাতি) আতংকিত হয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্যরা তাদের সাথে অশ্লীল আচরণ করে পুরো বাড়ির সব মালামাল ভাংচুর করে। লুটপাটও করে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল।

তিনি আরো জানান, পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ আধঘন্টা ধরে দা, কুড়াল, হ্যামার সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে ভাংচুরের কারণে পুরো বাড়িটি একটি ধ্বঃস স্তুপে পরিনত হয়েছে। ভাংচুরকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে-মোটর সাইকেল, ২টি টিভি, ফ্রিজ, সোফা সেট, ২টি বক্স খাট, পিলার ও টিনের প্রবেশ গেইট, সেলাই মেশিন, সোকেস, ফাইল কেবিনেট, ৬টি চেয়ার, মাছের একোরিয়াম, টেবিল, গ্যাসের চুলা, ২টি তৈরী চুলা, ২টি দেয়াল ঘড়ি, বেসিন, ওয়াশিং মেশিন, ২টি আলনা, ২টি জগ, ডিনার সেট, ১৬টি গøাস, ২ ডজন চায়ের কাপ, প্লেট রাখার রেক, রান্না ঘরের আলমিরা, ২টি ড্রেসিং টেবিল, ২টি পড়ার টেবিল, ১৫টি ভাতের প্লেট, পানির পাম্প, পানির টেপ, ৩টি ওয়াল সিনারী, রান্না ঘরের টিনের ছাউনী, ২ জোড়া দরজা, ১ জোড়া জানালা, ১৪টি রান্নার ডেকসি, ৪টি পানির কলসি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি প্রভৃতি।

এছাড়া চলে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা বিদেশ থেকে জামাতার পাঠানো ৩টি মোবাইল ফোন সেট, ২টি টর্চ লাইট সহ বেশ কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

আরেফা বেগমের স্বামী হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ সদস্যরা এমন নজিরবিহীন ভাংচুর-লুটপাটের পর কক্সবাজার সরকারি কলেজে ডিগ্রি ২ বর্ষে অধ্যয়নরত আমার ছেলে আশিকুর রহমান রনিকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে টাকা দাবি করলে আমি পরদিন (৩০ জুলাই) এসআই জয়নাল ও এসআই মংছাই মার্মাকে ৫০ হাজার টাকা দিই। কিন্তু টাকা নেয়ার পরও আমার ছেলেকে থানা থেকে ছেড়ে না দিয়ে উল্টো ৯৫ পিচ ইয়াবা পেয়েছে মর্মে একটি সাজানো মামলায় জড়িয়ে কোর্টে প্রেরণ করে।

মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে চাকমারকুলে। অথচ আমার ছেলেকে কোন মাদক ছাড়াই রাতে বাড়ি থেকে নেয়ার সময় আশপাশের শত শত মানুষ দেখেছে। এছাড়া মামলার এজাহারে আমার ছেলের লুঙ্গী কোছা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হলেও কোর্টে চালান দেয়ার সময় তদন্তকারি কর্মকর্তা লিখেছেন তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে এসব ইয়াবা পেয়েছেন। মূলত মিথ্যা মামলা সাজাতে গিয়ে পুলিশও বেসামাল হয়ে গেছে।

হাবিবুর রহমান আরো বলেন, তার ছেলে কোনমতেই ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত নন। আর করলেও এ বাড়িটি ছেলের নয়। কেন তার বাড়িতে এভাবে ভাংচুর-লুটপাট চালানো হলো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জীবনে তিনি এমন লুটপাট-ভাংচুর দেখেননি এবং চোর-ডাকাতরাও এমন আচরণ করে না। পুলিশের এমন আচরণে তাঁর পরিবার এখন দিশেহারা-আতংকিত। ভাংচুর-লুটপাটে তার ১০ লাখ টাকারও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান।

এদিকে বর্বরোচিত এ হামলা-লুটপাটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য আরেফা বেগম। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এবিষয়ে বক্তব্য নিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের এর সরকারী মেঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বক্তব্য পেলে প্রকাশ করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel