শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

কাল ভাসানচর থেকে ফিরবেন রোহিঙ্গা নেতারা

সিসিএন
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখা শেষে কাল (৮ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার ফিরে আসবেন কক্সবাজারের শরাণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা। তাঁরা ক্যাম্পে পৌছে শরণার্থীদের কাছে ভাসানচরে তৈরি করা আবাসন ব্যবস্থাপনাগুলো তোলে ধরবেন এবং অন্তত প্রত্যাক ক্যাম্প থেকে  কিছু কিছু রোহিঙ্গা পরিবার যেতে রাজি হয় সেটি বোঝানো হবে।

(৭ সেপ্টেম্বার) সোমবার সন্ধায় ভাসানচর এর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা নেতা হেফজুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সোমবার দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ভাসানচরে গরু, ছাগল, মুরগী খামার ঘুরে দেখেছি। তাছাড়া যেইভাবে ভাসানচরের চার পাশে বাধঁ হেটে দেখছি। সব মিলিয়ে দুই দিনের কথা বলি ভাসানচরে ঘুরে দেখে মনে হল, সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের গড়ে তোলা যেসব অবকাঠামোগুলো মজবুত ও খুবিই সুন্দর। এখানে ভিজিতে আসা সকল রোহিঙ্গা নেতাদেরও পছন্দ হয়েছে। তাছাড়া মানুষ বসবাসে যে সকল প্রয়োজনী জিনিসপত্র দরকার সেগুলোও রয়েছে। যেটি এখানে আসার আগে ধারনার বাহিরে ছিল।’

এদিকে সরকার ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবির থেকে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ওই দ্বীপে পাঠানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়। এজন্য রোহিঙ্গা নেতাদের একটি দলকে সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় গত শনিবার টেকনাফ থেকে ভাসানচরে নিয়ে আসে সরকার। প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম হয়ে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ভাসানচরে পৌঁছায়। তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে কী কী ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে তা বর্ণনা করা হয়। এরপর তাদের (রবিবার ও সোমবার) দুই দিন পুরো আবাসন প্রকল্পের অবকাঠামো ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। এসময় তাদের সঙ্গে নৌবাহিনী, পুলিশসহ আরআরআরসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী মঙ্গলবার তাদের  টেকনাফের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়া কথা রয়েছে।

ভাসানচর থেকে মুঠোফোনে আরেক রোহিঙ্গা নেতা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই দিনে ভাসানচরে অবকাঠামো দেখা শেষ হয়েছে। এখান থেকে মঙ্গলবার ফিরে সেখানকার অবকাঠামো এবং সুন্দর পরিবেশ সর্ম্পকে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের কাছে উপস্থাপনা করা হবে। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে, অন্তত প্রত্যাক ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় যাতে কিছু কিছু পরিবার সেখানে যাওয়ার জন্য রাজি হয়। এর আগের দিন খাদ্য গুদাম, থাকার ঘর, আশ্রয় সেন্টার, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, খেলার মাঠ ও কবরস্থানসহ মাছ চাষের পুকুর পরিদর্শন করেছিলেন। এছাড়া সেখানে বিভিন্ন প্রকারের সবজির বাগান এবং সাগরের তীরে কেওড়া বাগান দেখে অনেকে মুগদ্ধ হন।’

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, ‘মঙ্গলবার ভাসানচর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দল ফিরে আসবেন। এরপর তাঁরা নিজ নিজ ক্যাম্পে পৌছে ভাসানচরে যা দেখেছেন সেটি রোহিঙ্গাদের মাঝে তোলে ধরবেন। ভাসানচর এই প্রতিনিধি দলের কাছে ভাল লেগেছে। আমাদের বিশ্বাস ভাসানচরে যেতে রাজি করাতে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের তাঁরা বুঝাতে সক্ষম হবে।’

সিধান্ত অনুযায়ি রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার ভাসানচর থেকে ফিরে আসবেন উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক জানান, ‘তাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে পৌছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আশ্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সেখানকার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ এবং এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এক সভায় ভাসানচরের জন্য নেওয়া প্রকল্পের খরচ ৭৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। বাড়তি টাকা বাঁধের উচ্চতা ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৯ ফুট করা, আনুষঙ্গিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণে খরচ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2020 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel