রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

চকরিয়ায় অবুঝ শিশু ভাই-বোনের ওপর নৃশংসতা!

সিসিএন
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৫ বার পঠিত

চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে গর্জনতলীর পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর দুই অবুঝ শিশু ভাই-বোনকে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। এ সময় বোনের দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলা ছাড়াও শরীরের আটটি স্থানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।

এ সময় ভাইকে গলায় কোপ দেওয়া হলেও সেই কোপ সহ্য করে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় জনতা দুই শিশুকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তরা ফেলে যায় একটি কাপড় এবং এক জোড়া সেন্ডেল।

আজ সোমবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ঘাটি রাস্তার মাথা নামক স্থান তথা জঙ্গলের ভেতর এই নৃশংসতার ঘটনা ঘটে।

নৃশংসতার শিকার দুই শিশু ভাই-বোন হলো রিয়াজ উদ্দিন (৭) ও রাজু আক্তারকে (১০)। তারা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের গর্জনতলী গ্রামের আবদুর ছবির পুত্র ও কন্যা। তন্মধ্যে শিশু রাজু আক্তার গর্জনতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় এবং রিয়াজ উদ্দিন একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

দুই শিশুর দিনমজুর বাবা আবদুর ছবির বলেন, ‘আবদুর রহিম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি আমার কাছ থেকে কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় তিনদিন আগে আমার স্ত্রী মিনা আক্তারকে হুমকি দিয়ে যায়, বড় ধরণের ঘটনার শিকার হবো আমরা। সেই হুমকি দেওয়ার তিনদিনের মাথায় আজ আমার দুই অবুঝ শিশুকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গলের ভেতর। সেখানে দুই শিশুকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালায়।

তবে পুত্র শিশু রিয়াজ গলায় চালানো ধারাল অস্ত্রের কোপ সহ্য করে পালিয়ে পাশের সড়কে এসে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যায়। একইসময় মেয়ে রাজুর ওপরও চালানো হয় নৃসংশতা। এ সময় রাজুর দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলাসহ শরীরের আট স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে।’

ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন, এমন প্রশ্নে বাবা আবদুর ছবির বলেন, ‘আমি এবং স্ত্রী মিলে ঈদগাঁও যাই, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা দিতে। সেই সুযোগে দুই শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পূর্ববিরোধ থাকা আবদুর রহিম ও তার লোকজন।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিশুর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি। শিশুর প্রতি এমন অমানবিকতার সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel