মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়ায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর মেচ ও শাহ মজিদিয়া রেস্টুরেন্টকে জরিমানা কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবার হচ্ছে ‘শিশু হাসপাতাল’ বিজিবির অভিযান: ৬০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এসআর নিহত অবৈধ দখলঃ ২ একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার সৈকতে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৪২ জন পর্যটক ও ব্যবসায়ীকে ৬০২০ টাকা জরিমানা বিএনপি বাসে আগুন দিয়ে আ’লীগ সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত চায়: সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেতু মন্ত্রী টেকনাফে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারী আটক:বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ টেকনাফে সরকারি খাস জমিতে নির্মাণাধীন মার্কেটের কাজ বন্ধ করে দিলেন-স্থানীয় সাংসদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সিসিএন
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান রাখেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যূত ১১ লাখেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও এখনও ফেরত নেয়নি।

“এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর দমন-পীড়নের মুখে আরও ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

মিয়ানমার তার দেশের এই নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। রাখাইনে নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা না পেলে মিয়ানমার ফিরতে চাইছেন না তারা।

রোহিঙ্গাদের ভয় কাটাতে মিয়ানমার সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক নান ফোরামে অভিযোগ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গত বছরের ভাষণেও রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন শেখ হাসিনা।

মিয়ানমারের নিষ্ক্রিয়তায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর হতাশা  

কোভিড-১৯ মহামারীরা কারণে সরাসরি না গিয়ে ভার্চুয়ালি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এবারের ভাষণে আগের মতোই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের সমর্থন তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের বন্ধুত্বের পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়- এই নীতিবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলমন্ত্র। এ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে।”

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সংঘাতপ্রবণ দেশসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম দায়িত্ব।”

শেখ হাসিনা বলেন, “শান্তির প্রতি অবিচল থেকে আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। মহামারীর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অপরিহার্য।

পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত পৃথিবী বিনির্মাণে বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিন বলেন, “সে বিবেচনা থেকে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহের কার্যক্রমকে আমরা জোর সমর্থন জানাই।”

ভাষণে করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি এই লড়াইয়ে বিশ্ববাসীকে এক হওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আশা করা হচ্ছে, বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন পাবে। এই ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সকল দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একইসঙ্গে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।”

কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব পেলে বাংলাদেশও এই টিকা বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করে দিতে পারে বলে বিশ্ববাসীকে জানান শেখ হাসিনা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel