শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

টেকপাড়ায় বেপরোয়া রফিক-মহিউদ্দিন বাহিনী

সিসিএন
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০ বার পঠিত

শহরের বৃহত্তর টেকপাড়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে রফিক প্রকাশ ঠাকুর রফিক ও মহিউদ্দিন বাহিনী। সরকার বিরোধী নাশকতা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, জাল-জালিয়াতি, অপরহরণ, অস্ত্রবাজি, ইয়াবা কারবার, সরকারি জায়গা দখলসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে এই বাহিনী। অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে এই বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দুল হক মেম্বারের পুত্র রফিক তার সহোদর মহিউদ্দিন, নাছির উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন নিয়ে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে শহরজুড়ে সরকার বিরোধী নাশকতা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, জাল-জালিয়াতি, সরকারি জায়গা দখলসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা। তাদের নির্মম নির্যাতনে এলাকার অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বিএনপি ও যুবদল নেতা রফিক প্রকাশ ঠাকুর রফিক গত জাতীয় নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারে বিরুদ্ধে নীল নকশা প্রণয়ন করেছিলেন। ওই সময় টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জনতা ও পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার হন। সে ছাত্রলীগ নেতা নুর হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পেট্রোল বোমা হামলা, আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতাসহ একাধিক অভিযোগে ডজনের অধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে জেলাব্যাপী সরকার বিরোধী নানা নাশকতার পরিকল্পনার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড এই ঠাকুর রফিক। টেকপাড়া চৌমুহনীতে পৌরসভার নালা দখল করে গড়ে তুলেছে একাধিক দোকান। বাঁকখালী ও খুরুশকুলে অস্ত্রের জোরে খাসসহ অসহায় মানুষের জমি দখল করে বনেছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। তার আরেক ভাই ছাত্রলীগ নেতা নুর হত্যা মামলার আসামী মহিউদ্দিন একজন খুনী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী।

নুর হত্যা মামলায় সে বিদেশ পালিয়ে অনেক বছর পালিয়ে ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে দেশে আসে। রফিক ও মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে পুরো শহরকে জিম্মি করে রেখেছে। মহিউদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করেছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। এই বাড়িগুলোকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া তাদের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসার লেনদেন হয় এখানেই।

রফিকের আরেক ভাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাহাব উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মহেশখালী থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন পার্টিকে নানা কৌশলে অস্ত্র বিক্রি করে সে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সিন্ডিকেটের লোকজন ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র-গুলি পাচার করে আসছে বলে জানা গেছে।

আর এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য তার ভাই নাছির ও গিয়াস উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে গিয়াস উদ্দিন খুরুশকুল ব্রীজে যানবাহন থেকে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলন করছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে ভাংচুর করা গাড়ি। বেধম মারধর করা হয় চালকদের।

জানা যায়, কক্সবাজারে বিএনপির নাশকতায় মূলতঃ এই বাহিনী সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। বতর্মানে বৃহত্তর টেকপাড়া জনকল্যাণ সমাজ কমিটির নেতৃত্বে আসতে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। তাদের ইন্ধন যোগাচ্ছে কয়েকজন পৌর বিএনপি ও সাবেক শিবির ক্যাডার। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। টেকপাড়ায় আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িত পরিবার ও ব্যক্তিদের টার্গেট করে তারা একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য টেকপাড়া থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নিশ্চিহ্ন করা বলে জানান এলাকাবাসী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ওই ৫ ভাইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় টেকপাড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ উল করিমসহ ৪ জন আহত হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী সদস্য ফয়সাল আবদুল্লাহসহ এলাকার গণ্যমান্য বক্তিবর্গ।

এলাকাবাসী জানায়, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উপলক্ষ্যে গত সোমবার বৃহত্তর টেকপাড়া জনকল্যাণ সমাজ কমিটির মিটিং চলছিল। এসময় হঠাৎ সভাস্থলে চোরা, কিরিচ, লোহার রড ও অস্ত্র নিয়ে বেপরোয়া হামলা চালায় তারা তাদের সাথে ছিল আরও ২৫/৩০ জন স্বশস্ত্র বাহিনী। সমাজ ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা বিনা কারণে সমাজের সভাপতি গোলাম মাওলা বাবুলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।

তাদের গালি না দিতে অনুরোধ জানান পৌর ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ উল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এবং ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, জুনাইদুল হক আরিফ ও তার পিতা মো. শফি। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। তার মধ্যে মো. শফি ও রানা গুরুতর জখম হয়। পরে সমাজের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় টেকপাড়া চৌমুহনী প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। পরে সদর থানার এসআই আতিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের তথ্য সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের এর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রফিক-মহিউদ্দিন বাহিনী প্রতিদিন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত নেয়া হচ্ছে। অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সব বায়োডাটা বের করে সব সন্ত্রাসী বাহিনীর লাগাম টানা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel