শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

কক্সবাজারে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

সিসিএন
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯ বার পঠিত

চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাচায় ঝুলছে লাউ, শিম, পটল, শসা ও করলা। কোথাও আবার বেগুন, কপি, লালশাকসহ নানা রকমের নতুন নতুন শীতের সবজি ক্ষেত।

এমন সবুজ ক্ষেতের দৃশ্য এখন হরহামেশাই চোখে পড়ছে কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক। এ বছর অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে অনেকে আবার পড়েছেন ক্ষতির মুখে।

চাহিদা মেটাতে অনেক গৃহিণী বসতভিটায় সবজি চাষ করছেন। বসতভিটার আশপাশে এসব সবজির চাষ করতে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়নি। বায়োচার ব্যবহারে স্বল্প খরচে চাষ হয়েছে বিভিন্ন জাতের সবজি। আবার অনেকে বাড়ির ছাদেও করছেন এইসব সবজীর চাষ।

পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেছেন তারা। লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সবজি চাষ।

জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার-খেতে ব্যস্ত কিষান-কিষানীরা। এখানকার সবজি চাষিরা জানান, তারা বরাবরই শাক-সবজি চাষ করে আসছেন। এতে তারা সফলও। তাদের মতামত, সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যদি তাদের চাষকৃত শাক-সবজির উৎপাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরো সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৭ শত হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, মিষ্টি কুমড়া, ক্ষিরা, মরিচসহ অবশিষ্ট জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছে কৃষক। এ ছাড়া জমিতে আগাম জাতের আলু ও পেঁয়াজ চাষও হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর সবজির আবাদ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদে কৃষকরা সবজি খেত পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ব্যস্ত সময় পার করেন কাজে । দম ফেলার সময় নেই তাদের।

কলিম উল্লাহ নামে এক কৃষক জানান, ধান চাষ করে লোকসান গুনতে গুনতে কৃষক যখন দিশাহারা তখন বিকল্প উপায়ে সবজি চাষে বেছে নিয়েছে। আমরা এখন সবজি চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছি। আমাদের জেলার সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও শহরে রপ্তানি হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলায় শীতের আগমন ঘটেছে। সবজির চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি ও চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শসা, করলা, ডাঁটা, মিষ্টি আলু, পটল, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, বরবটি, গাজর, মুলা, শালগম, কলা, বেগুনসহ নানান জাতের সবজি চাষে ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে দিন পার করছে চাষিরা।

কৃষক হোসাইন বলেন, আমি চলতি মৌসুমে ২৫ কাঠা জমিতে বেগুন ও বাঁধাকপির চাষ করেছি। ব্যয় হয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা। অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে ফসল তৈরি করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ফুলকপিতে পচন রোগ ধরছে।

বিভিন্ন কোম্পানির ওধুষ প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বেগুন জমি থেকেই ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসল থেকে লাভের আশা করছেন তিনি। এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলুর চাষ করেছি।

কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে গাছ ভালো হয়নি। গাছের শক্তিও তুলনামূলক কম। এ ফসলে লোকসানের মুখ পড়তে পারেন বলে উল্লেখ করেন কৃষক হোসাইন। একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। তার জমিতে কপির চারাগুলো সবে সতেজ হয়ে উঠছে।

কৃষক আলী আকবর বলেন, ১০ কাঠা করে লাউয়ের চাষ করেছেন। গাছগুলো এর মধ্যে অনেক বড় হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব লাউ জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এসব গ্রামের মাঠে প্রচুর লাউয়ের চাষ হলেও এবার অনেকটা কম হয়েছে।

অন্য কৃষকরা জানান, এবার আলুর দাম অনেক চড়া। এক বিঘা জমিতে এ মৌসুমে রোপণের জন্য অন্তত ২৮ হাজার টাকার বীজ আলুর প্রয়োজন হবে। এত চড়া দামে বীজ কিনে লোকসানে পড়ার শঙ্কায় আবাদ কম হয়েছে। এ ছাড়া অসময়ে বৃষ্টিতে তৈরি জমি নষ্ট হয়ে যায়। পরে ওই সব জমিতে আবারও হালচাষ করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের নতুন সবজি বেগুন ৫০ টাকা, ফুলকপি ১২০, বাঁধাকপি ৫০, মুলা ৫০, শিম ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, পালংশাক ৪০, গাঁজর ১০০ ও শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিবিদরা বলছেন, পানি সাশ্রয়ী ফসলের চাষ বাড়ানো গেলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমে যাবে। এতে রক্ষা পাবে পরিবেশের ভারসাম্য। এ জন্য সবজি, গমসহ পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় কক্সবাজারে এবার আগাম শীতকালীন সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ চাষ সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষকদের মধ্যে কৃষিঋণ প্রদান করেছে। ফলে দিন দিন এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয় চাষিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel