বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পেকুয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে কালভার্ট ও সড়ক সংস্কার জেলা ছাত্রলীগকে স্বাগত জানিয়ে কুতুবদিয়া ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল সবাই মিলে কাজ করলে শুঁটকি পল্লীতে শিশুশ্রম নিরসন করা অসম্ভব হবে না আইডিয়াল স্পোটিংসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাদাস ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সোনাইছড়িতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত চকরিয়ায় কোটি টাকার সরকারি খাসজমি উদ্ধার: দখল উচ্ছেদ চকরিয়ায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর মেচ ও শাহ মজিদিয়া রেস্টুরেন্টকে জরিমানা কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবার হচ্ছে ‘শিশু হাসপাতাল’ বিজিবির অভিযান: ৬০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

১০ বছর ধরে তিনিই সম্পাদক, ৪ বছরে সমিতির ৬০ লাখ টাকা আত্মসাত!

সিসিএন
  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬ বার পঠিত

 

কক্সবাজার সদরের ‘পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতি’র চিংড়ি ঘেরের গত ৪ বছরে আয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক ভাবে দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় সম্পাদকের পদ আকড়ে থেকে তিনি নানা কৌশলে এসব টাকা আত্মসাত করেছেন। নেই প্রকাশ্য অডিটও।

শতাধিক ভূমিহীন সদস্যের ’হক’ বিপুল অংকের টাকার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন সমিতির ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা। লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব না হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক টাকা আত্মসাত করে আসছেন বলে স্বীকার করেছেন জেলা সমবায় অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

আবেদনে সমিতির ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, ১৯৭২ সনে উপকূলীয় গোমাতলীর ১২৯ জন ভূমিহীন দরিদ্র অধিবাসী ‘পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড’ গঠন করে। আর ১৯৮৬ সনে সমিতির নামে তারা লীজ পান ১৯৩ একর খাস জমি। ভুমি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আয়-ব্যয় সঠিক ভাবে পরিচালনায় সমবায় আইন অনুসারে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়। সভ্যরা ভাগে পাওয়া জমি স্ব স্ব উদ্যোগে গ্রীষ্মকালে লবণ চাষ করলেও বর্ষায় পুরো জমিতে চিংড়ি ঘের করা হয়। যোগসই দামে ঘের বাৎসরিক নিলাম বা সমিতির ব্যবস্থাপনায় চাষ করে পাওয়া টাকা থেকে আনুসাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বাকি টাকা সদস্যদের মাঝে সমানে বন্টন হয়ে এসেছে।

যুগ যুগ ধরে এমনটি চলে আসলেও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আকবর ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৌশলে ক্ষমতা বাগে রেখে ‘নয়-ছয়’ করে আসছেন। বিগত ৪ বছর সদস্যরা চিংড়ি ঘের থেকে আয়ের কোন টাকার ভাগ পাননি। সমবায় আইনে প্রতি বছর অডিট করার কথা থাকলেও বিগত অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে সদস্যরা জানে মতো সমিতির কোন অডিট নেই।

তারা আরো উল্লেখ করেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত যতসামান্য টাকা সদস্যরা পেলেও ২০১৭ সাল হতে চলতি মৌসুম পর্যন্ত চিংড়ি মৌসুমের আয়ের একটি টাকাও পাননি কোন সভ্য। মৌখিক হিসাব মতে সমিতির জমিতে চিংড়ি চাষে ২০১৭ সালে আয় হয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে সাড়ে ২২ লাখ টাকা, ২০১৯ সালে আয় হয় ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আর চলতি (২০২০ সালে) চিংড়ি মৌসুমে আয় হয়েছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ৪ বছরে আয় হয়েছে মোট ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আয়ের এ টাকা তিনি কৌশলে আত্মসাত করেছেন।

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সমিতি গঠনের সময় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আকবর সভ্য ছিলেন না। এলাকায় তাদের পরিবারের ‘বাহুবল’ থাকায় গায়ের জোরে দেড়-দু’যুগ আগে সমিতিতে সদস্য পদ বাগিয়ে নেন তিনি। ধীরে ধীরে সমিতি পরিচালনায় মাথা ঘামিয়ে ২০০৯ সালের দিকে সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করেন। কষ্টবিহীন টাকা আত্মসাতের একটি সরল পথ দেখে গোপনে কমিটি গঠন করে ২০১১ সালে নিজের ছেলেকেও সভাপতির পদে বসান বর্তমান সম্পাদক।

সবকিছু নিজের আয়ত্বে নিয়ে ২০১১-২০১২ সালের একটি অডিটে তার সাথে মতের অমিল ১৩ জনের সদস্য পদ বাতিল করেন তিনি। পরবর্তীতে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদের ছেলে মামুন ইফতেখার টেস্ট অডিটের মাধ্যমে বাদ যাওয়া সদস্যদের পুনরায় সদস্যপদে ফেরান। সমিতির দায়িত্বশীলরা কৌশলে তাদের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সমিতিতে সদস্য করায় এখন সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৩ জনে।

সমিতির নামে কোন হিসাব না খুলে আয়ের সমোদয় টাকা ব্যক্তিগত একাউন্টে রেখে ইচ্ছেমতো খরচ করেন সাধারণ সম্পাদক। কমিটির সভাপতি তার নানা অনৈতিক কাজে বিরোধীতা করায় কৌশলে তাকে বাঁধ দিয়ে নতুন একজনকে সভাপতি হিসেবে যুক্ত করেছেন।

টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আকবর বলেন, গত চার বছরে ৬০ লাখ টাকা মতো ঘের থেকে আয় পেয়েছিলাম তা ঠিক, তবে সমিতির উন্নয়ন ও বেড়িবাধ এবং স্লুইচ গেইট নির্মাণে প্রায় ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা নানা ভাবে ধার-দেনায় করেছি। নির্বাহি কমিটির সদস্যরা এসব জানে। হয়তো সাধারণ সদস্যরা জানে না।

তিনি আরো বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তাদের মাঝে কয়েকজন নিয়মিত সদস্য হলেও বাকিদের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। তাই তারা এসব অভিযোগ তুলছে। নিয়ম মতো অডিট কাগজে কলমে ঠিক রয়েছে। সদস্যদের মাঝে বিদ্রোহ তৈরীর চেষ্টা করায় সভাপতি এম. গফুর খানকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, শুরু থেকেই সমিতির নামে ব্যাংক একাউন্ট নেই তাই আমিও করিনি। পুরোনো দায়িত্বশীলরা যেভাবে কাজ করেছে আমিও সেভাবে করছি।

সমিতির নতুন সভাপতি আবছার কামাল বলেন, রোয়ানোতে বেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সমিতির উন্নয়নে ব্যয় করতে হয়েছে। তাই আয়ের টাকা সদস্যদের দেয়া যায়নি। আমরা চেষ্টা করছি গেপ থাকা অডিট সম্পন্ন করে আগামী মৌসুম থেকে সদস্যদের ভাগের টাকা পৌছে দিব।

কক্সবাজার জেলা সমবায় অফিসের কর্মকর্তা মকছুদ আহমদ বলেন, পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেডে অনিয়ম দীর্ঘদিনের। সময় মতো অডিটও জমা দেয়া হয় না। সাধারণ সম্পাদক পকেট কমিটি করে সব জায়েজ করে নেন। আমরা লোকবল সংকটের কারণে অনেক কিছু তদারকি করতে পারি না। আবার দরিদ্র ভূমিহীনদের কথা চিন্তা করে সমিতির রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করতে পারি না। এরপরও সম্প্রতি পাওয়া অভিযোগ নিয়ে নতুন দায়িত্ব নেয়া জেলা কর্মকর্তা জহির আব্বাস কঠিন ভাবে মাথা ঘামাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, উপকূলের ভূমিহীন মানুষদের নিয়ে গড়া সমবায় সমিতির মাঝে কক্সবাজারের চকরিয়ার ‘বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত সমিতি। এরপর কক্সবাজার সদরের ‘গোমাতলী সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতি’ এবং ‘পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতি’ দেশের বড় উপকুলীয় সমবায় সমিতি হিসেবে প্রসিদ্ধ। এ তিন সমিতির হাজার হাজার একর মাঠে চাষ করা লবণ দেশের ৯৯ শতাংশ লবণের চাহিদা মেটায়। আর বর্ষায় এসব জমিতে চাষ করা বাগদা ও লইল্যা চিংড়ি সারা দেশে সরবরাহ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানী হয়। যা থেকে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়ে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 | কক্সবাজার ক্রাইম নিউজ
Theme Customized By Shah Mohammad Robel