অবশেষে টেকনাফ থেকে ৬’শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল দুটি জাহাজ 

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে ৬১০ পর্যটক বহন করে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাত্রা করল পর্যটকবাহি দুইটি জাহাজ। (১৩ জানুয়ারী ) শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটি ঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিন উদ্দেশে এম ভি পারিজাত ও এম ভি রাজহংস পর্যটক নিয়ে যাত্রা করেন।
এর আগে নাফ নদীর বিভিন্ন জায়গায় বালুচর জেগে উঠাসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের কারণে পর্যটক মৌসুমও টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল।
সরেজিমনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে টেকনাফ দমদমিয়াস্থলে এম ভি পারিজাত ও এম ভি রাজহংস পর্যটকবাহি জাহাজ জেটি ঘাটে টিকেটের জন্য ভীড় করেন ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। এসব পর্যটকদের মধ্য অনেকে আসা পথে টেকনাফ সড়কে বেহাল অবস্থা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণে এসে জাহাজে বসে পর্যটকরা গানে গানে আনন্দ উল্লাসে যাত্রা করে।
দমদমিয়া জেটিঘাটে পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, ‘শুক্রবার সকালে ওই দুটি  পর্যটকবাহি জাহাজে করে ৬’শ বেশি ভ্রমণকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপে রওনা দিয়েছে। কৃতপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে এ জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে। এসব পর্যটকদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পর্যটক পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি থাকবে।
তিনি বলেন, ‘এ রুটে আরো পর্যটকবাহি জাহাজ শনিবার থেকে চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপে পরিবেশ সু-রক্ষা থাকে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করছে।’
এসময় জাহাজে থাকা গোপালগঞ্জ থেকে আসা মিনহাজ আহমেদ জানান, ‘প্রথম বারের মতো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে এসেছি, খুব আনন্দ লাগছে। আমাদের দলে ১’শ জন সদস্য রয়েছে। দ্বীপে আমরা দুই দিনের ভ্রমণে দ্বীপে নীল দিগন্তে উঠবো। কিন্তু আসার পথে টেকনাফের অনেকটা সড়কের খুবিই খারাপ অবস্থা ছিল।’
টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি-ক্রুজ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন,  ‘আজ প্রথম বারের জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমদিনে দুইটি জাহাজে ৬’শ ১০ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে রওনা দিয়েছে। কোন জাহাজ কতৃপক্ষ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করে সেজন্য সবাইকে সর্তক করা হয়েছে। সব হাজারের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ফিটনেস ঠিক করা হয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ গত বছরের মার্চের দিকে  টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল করেছিল।

Leave a Reply