ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় ৪ জেলেকে সাগরে নিক্ষেপ

কক্সবাজার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে চারটি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় ট্রলার থেকে চার জেলেকে সাগরে নিক্ষেপ করেছে জলদস্যুরা। ঘটনার পর থেকে এখনও ওই চার জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিশিং বোট মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে কক্সবাজার উপকূলবর্তী সাগরের ১৪ বিউ নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন—অলি আহমদ, মো. আনিস, মো. জিয়া ও দেলোয়ার হোসেন। তারা সবাই এফবি হাসান ট্রলারের জেলে।

ট্রলার মালিকদের বরাতে বোট মালিক সমিতির নেতা দেলোয়ার বলেন, শুক্রবার মধ্যরাতে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরত্বের ১৪ বিউ নামক এলাকায় এফবি হাসান নামের একটি ট্রলারে চড়ে মাছ ধরছিলেন জেলেরা। ওই ট্রলারটির মালিক সদর উপজেলার খুরুশকূলের মো. জকরিয়া। এর একপর্যায়ে আরেকটি ট্রলারে চড়ে এসে এফবি হাসানের ওপর হামলে পড়ে একদল জলদস্যু।

তিনি বলেন, এসময় বাধা দিলে এফবি হাসানে থাকা ১৯ জেলেকে মারধর ও চারজনকে সাগরের পানিতে ফেলে দেয় জলদস্যুরা। পরে এফবি হাসানের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে মাছ ও জালসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। এরপর জলদস্যুরা ঘটনাস্থলের কিছু দূরে মাছ ধরার আরও তিনটি ট্রলারে ডাকাতি করে। ওই ট্রলারগুলো থেকেও মাছ ও জালসহ অন্যান্য মালামাল লুটের পর ইঞ্জিন বিকল করে পালিয়ে যায় তারা।

দেলোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকে সাগরে ফেলে দেওয়া চার জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য ট্রলারের সহায়তায় এফবি হাসানকে কক্সবাজার উপকূলে নিয়ে আসা হয়। এখনও সাগরে ভাসছে ডাকাতির শিকার অন্য তিনটি ট্রলার।

শনিবার সকালে বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী এফবি হাসানের মালিক মো. জকরিয়া। তবে ঘটনাস্থল নিজেদের আওতাধীন এলাকা নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ও উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কথা হলে ঘটনাস্থল তাদের আওতাধীন নয় বলে জানিয়েছেন।

পরে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান বলেন, টেকনাফের শামলাপুর উপকূলবর্তী সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ অবহিত নয়। তবে ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply