নারীর ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম বাধা হলো নির্যাতন ও সহিংসতা

বর্তমান সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ব্যাপকতা দিন দিন বাড়ছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা তথা পুরুষের কর্তৃত্ব, নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ক্ষতিকারক অনুশীলনগুলোর সামাজিক বৈধতা এবং অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা বা বিচারহীনতার সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর তাই নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) কক্সবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার নির্বাচন অফিসের কনফারেন্স হলরুমে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. নাসিম আহমেদ।

ব্র্যাকের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি অজিত কুমার নন্দীর সভাপতিত্ব ও গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রজেক্টর ডিসপ্লেতে নারীর ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের ভূমিকা তুলে ধরেন মিতালী জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ‘সমাজে নারীর মতামতকে গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত সম্ভব। পারিবারিক সমঝোতা থাকলে নারী ও শিশু নির্যাতন এড়ানো যাবে। এছাড়া সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। যার ফলে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার হার দিন দিন বাড়ছে। তাই সামাজিক সচেতনতা ও নারীর মতামতকে প্রধান্যের মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দর সমাজ গঠনে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী ঘরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই নারী অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠে। নির্যাতনের ফলে ব্যক্তি নারীর শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতনের পাশাপশি গোটা পরিবারই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বেশিরভাগ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিরূপ প্রভাব পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর পড়ে। যার ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর নির্যাতনের দুষ্টচক্র গড়ে ওঠে। তাই নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

আর তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার। সন্তানদের শিশুকাল থেকেই এভাবে গড়ে তোলা, যেন তার মধ্যে নারীর প্রতি অবমাননাকর কোনো ধারণা তৈরি না হয়। নারীকে ভোগ্যপণ্য মনে না করে। পাশাপাশি প্রতিটি শিশুসন্তানকে ছেলেমেয়ে বিভেদ না করে লেখাপড়াসহ সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, খাবার গ্রহণ, ঘরের কাজ, বাইরের কাজ, স্কুলে যাওয়া ইত্যাদি কোনো ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়ের মধ্যে বিভেদ না করা। নারী ও পুরুষকে সমভাবে নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.