নিজ দেশে ফিরতে চায় রোহিঙ্গারা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে কক্সবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে প্রতিটি ক্যাম্পে সমাবেশ শুরু করেন রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং লম্বশিয়া ক্যাম্পের সামনে রোহিঙ্গারা সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নেন। সমাবেশে লাখের অধিক মানুষের সমাগমের কথা রয়েছে। সমাবেশে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হবে। এছাড়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বানও জানানোর কথাও রয়েছে।

তবে সমাবেশ কারা আয়োজন করেছে এমন প্রশ্নে এক রোহিঙ্গা বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে।

মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা মাঝি মাস্টার রফিক বলেন, ভিটে-মাটি ছেড়ে এসেছি। এখন ফিরে যেতে চাই নিজের দেশে। আমরা এখানে থাকতে চাই না। দেশে ফিরতে চাই।

কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে আসা মো. সেলিমের সঙ্গে কথা বলার সময় ঘিরে ধরেছিলেন জনা ত্রিশেক লোক। তারা সবাই পুরোনো। তারা ‘ঝামেলা’য় ভরা এই জীবন থেকে মুক্তি চান। তাদের একজন আমানুল্লা। তিন বছর বয়সে পাহাড়-জঙ্গল ডিঙিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

মিয়ানমারের দোতলা কাঠের বাড়ির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন। পলিথিনের ছাদ আর মাটির ওপর চাটাইয়ে শুয়ে শুয়ে তিনিও স্বপ্ন দেখছিলেন ফিরে যাওয়ার। এর মধ্যেই তার স্বজনরা মিয়ানমারের জঙ্গল থেকে ফোন করে জানান, তারা আশ্রয় চান। তিনি ‘না’ করতে পারেননি। শরনার্থী শিবিরে তার ২২৫ বর্গফুটের কক্ষে এখন তিনি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়া আরও ছয়জন এসে উঠেছেন। তারপরও বাড়ি ফিরতে চান।

এর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু। বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পালিয়ে আসেন কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। সেদিনের ঘটনার বিচার চেয়ে ও নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে কক্সবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করেছেন উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের রাহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গারা দাবি করেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিনের ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.