বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী দিক বিবেচনা করে, কোন ঝুঁকির মধ্যে নেই। আমি আপনাদের সকলকে নিশ্চিত করতে পারি যে উদ্বেগের কিছু নেই।’
যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে আজ বিকেলে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
সরকার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের যে কোনো ধরনের দুর্ভোগ কমাতে তারা বিষয়টিতে মনোযোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘চিন্তার কোনো বিষয় নেই। আমরা সবাই যদি মনে করি এটা আমাদের দেশ এবং আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেভাবে স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিচালনা করছে সেখানে কোন ‘রিস্ক’ নেই। তাছাড়া, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কেননা ’৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় মাত্র ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন বিদ্যুৎ ছিল ১৩শ’ মেগাওয়াট, খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন। আর সাক্ষ্যরতার হার ছিল মাত্র ৪৫ ভাগ।
তিনি বলেন, ‘যেকোন কোন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের কোন রিস্ক নেই, এটুকু আমি কথা দিতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের কাছে গ্যাস বিক্রীর মুচলেখা না দেওয়ায় দেশি-বেদেশি ষড়যন্ত্রে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি সত্য কিন্তু তা করলে আজকে কিছুটা লোড শেডিং দিয়েও বিদ্যুৎ সঞ্চালনা যেভাবে অব্যাহত রাখতে পারছেন তা সম্ভব হোত না, দেশ অন্ধকারেই নিমজ্জিত হোত।
তিনি বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির যে টার্গেট আমরা নির্দিষ্ট করেছি। তা আমরা অর্জন করতে সমর্থ হব সে বিষয়টি আমি সবাইকেই আশ^স্থ করতে চাই। এরপর যদি কোন মহাদুর্যোগ দেখা দেয় তাহলেতো সারা বিশে^রই সমস্যা হবে, তা নিয়েতো বেশি কিছু বলার নেই। তবে, আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী আছে এটুকু আশ^াস আমি দিতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের দিক থেকেও কোন সমস্যা নেই আর যেসব প্রকল্প দ্রুত শেষ করলে রিটার্ন পাওয়া যায় সে ধরনের প্রকল্পগুলোই আগে বাস্তবায়ন করছি। আর প্রকল্প গ্রহণের সময় যেসব প্রকল্প দেশের জন্য লাভজনক হবে সে ধরনের প্রকল্পই আমরা নিচ্ছি। তাঁর সরকার বেসরকারি খাকে উন্মুক্ত করেছে, সেখানেও বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এবং জনগণকেও তিনি সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা-মিডিয়ার ঢালাও সমালোচনার বিরুদ্ধে তিনি ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা যতই ভাল করি তাদের চোখে কোনদিন ভাল লাগে না, তারা যেন এক ধরনের পরশ্রীকাতরতায় ভোগে। তবে, আমাদের কাজে জনগণ কতটুকু লাভবান হল আমরা সেদিকেই বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দেই।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহাসানুল করিম।
প্রধানমন্ত্রী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে তার ১৮ দিনের  রাষ্ট্রীয় সফর শেষ ৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং বিভিন্ন সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন বিষয়টা রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত, কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না। এখানে আমরা তো কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে। হ্যাঁ আমরা অবশ্যই চাই যে সব দল অংশগ্রহণ করুক।
তিনি বলেন, আমরা চাই সব দল আসুক, ইলেকশন করুক। কার কোথায় কতটুকু যোগ্যতা আছে। অন্তত আওয়ামী লীগ কখনো ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসবে না, আসেও নাই। আওয়ামী লীগ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় আসে।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাজ করে, জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোট নিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনো কোন মিলিটারি ডিরেক্টরের পকেট থেকে বের হয়নি। কারো ক্ষমতা দখল করেও কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ভোটের মাধ্যমেই এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমেই এসেছে।
বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশে নির্বাচনের যতটুকু উন্নতি যতটুকু সংস্কার এটা কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং আমরা মহাজোট করে সবাইকে নিয়েই কিন্তু এটা করেছি। এরপরও যদি কেউ না আসে সেখানে আমাদের কি করণীয়, হারার ভয়েই আসবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ভুলে গেছে তাদের অতীতের কথা। বিএনপির সৃষ্টি যেভাবে একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে আর তারপরে নির্বাচনের যে প্রহসন সেটা তো তাদেরই সৃষ্টি। বরং আমরা নির্বাচনটাকে এখন জনগণের কাছে নিয়ে গিয়েছি। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষ যাতে তাদের ভোটটা দিতে পারে পরিবেশ বা ভোট সম্পর্কে মানুষের যে সচেতনতা সেটা কিন্তু আওয়ামী লীগই সৃষ্টি করেছে।
জনগণের প্রতি আস্থা নেই বলেই বিএনপি বিদেশীদের কাছে ধন্যা দিয়ে বেড়াচ্ছে উল্লেখ  করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি ধন্যা দিয়ে বেড়াচ্ছে কেননা যদি মাটিতে জোর থাকতো, নিজের দেশের মাটিতে যদি এদের সেরকম সমর্থন থাকতো, খুঁটির যদি জোর থাকতো অর্থাৎ নিজের শিকড়ের জোরটা যদি এখানে থাকতো তাহলে তো বিদেশে ধন্যা দেওয়ার প্রয়োজন হোত না।
তিনি বলেন, জনসমর্থন থাকলে, জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে জনগণের কাছে যেত, বিদেশের কাছে দৌড়ে বেড়াত না, এটা হলো বাস্তবতা। আর সেই শক্তি নেই বলেই, তাছাড়া কোন  মুখে তারা জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো, খুন করা, বোমা মারা, গ্রেনেড মারা, সব জায়গাতেই তো তারা আছে। তাদের দ্বারা নির্যাতিতরা যদি সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলে কি জবাব দেবে বিএনপি? ঐ জন্যই তারা বিদেশিদের কাছে ধন্যা দিয়ে বেড়ায়। এরা মানুষের কাছে যায় না। আর আমরাতো বাধা দিচ্ছি না। যত আন্দোলন-সংগ্রম করবে তত ভাল কিন্তু করেনাতো কি করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামের হুমকি ধমকি অনেক কিছু পাওয়া যাচ্ছে। সেটাতো বিরোধী দলের কাজ তারা এটা করতেই থাকবে। কিন্তু, বিরোধী দল যদি এত শক্তিশালী হোত তাহলেতো অনেক কিছুই হোত।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন বলে জানান এবং বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।
১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলরও যদি বলে যে আমাকে চায় না, আমি কোনোদিনও থাকব না। এটা যেদিন থেকে আমার অবর্তমানে আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকে এই শর্তটা মেনে যাচ্ছি। এটা ঠিক দীর্ঘদিন হয়ে গেছে। অবশ্যই আমি চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন, যেটা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে এবং উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি সকলকে প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহার করে কিছু না কিছু উৎপাদনের জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, “কারণ অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছে, আমি জাতিসংঘে গিয়েছিলাম যেখানে আমি অনেক বিশ্ব নেতার সাথে আলোচনা করেছি। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সকলেই খুব উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত যে, ২০২৩ সালে একটি গুরুতর দুর্ভিক্ষ হতে পারে যখন অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর হবে।”
এ বিষয়ে এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মানুষ আছে, আমাদের খুব উর্বর জমি আছে, কোনো জমি অনাবাদি রেখে দেবেন না, যা পারেন তা উৎপাদন করুন এবং বিদ্যুৎ ও পানি সহ সবকিছু ব্যবহারে কঠোরতা বজায় রাখুন। আমাদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে বিচক্ষণতার সাথে কাজ করতে হবে।”
র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, ‘র‌্যাবকে আমেরিকা যেমন ট্রেনিং দিয়েছে, তারা তো তেমনই কাজ করছে।’
বাংলাদেশে সন্ত্রাস না থাকায় আমেরিকা নাখোশ কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্যাংশন তারা কতটুকু প্রত্যাহার করতে তা জানি না। তবে স্যাংশন দিয়ে তারা ক্ষতি করেছে। আমরা যাদের দিয়ে এ দেশের সন্ত্রাস দমন করেছি, তাদের উপর স্যাংশন দেওয়ার অর্থটা কি? সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া?
তিনি বলেন, “আমার এটাও প্রশ্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, তাহলে কি তারা সন্ত্রাস দমনে নাখোশ? ৪০ বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই তালেবানকেই ক্ষমতা দিয়ে চলে আসলো যুক্তরাষ্ট্র। ৪০ বছর তো তারা রাজত্ব করলো। তাহলে তাদের ব্যর্থতার কথা বলে না কেন?”
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সময়ে সময়ে আমাদের উপর নানা ধরনের স্যাংশন, অথবা এক সময় জিএসপি বাদ দিল, নানা রকমের ঘটনা ঘটায়।”
র‌্যাব গঠনের শুরু থেকেই সংস্থাটির সাথে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, র‌্যাবের উপরে তারা স্যাংশন দিল, আমরা প্রশ্নটা হল, র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? র‌্যাব সৃষ্টিতো আমেরিকার পরামর্শে।
তিনি বলেন, আমেরিকাই র‌্যাব সৃষ্টি করতে পরামর্শ দিয়েছে, আমেরিকা তাদের ট্রেইনিং দেয়, তাদের অস্ত্রশস্ত্র, তাদের হেলিকপ্টার, এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম সবই আমেরিকার দেওয়া।
র‌্যাব-পুলিশসহ যে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে, বাংলাদেশে তার বিচার হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনারা দেখেছেন যে, পুলিশ ইচ্ছামত গুলি করে মারলেও তাদের সহসা বিচার হয় না। শুধু একটা বিচার হল, যখন আমেরিকার লোক সবাই আন্দোলনে নামল।”
যুক্তরাষ্ট্র সফরে র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞার পেছনে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীরও ‘ভূমিকা’ রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের দেশের কিছু লোক তাদের যেসব স্টেটে থাকে, সেখানকার স্থানীয় সিনেটর, কংগ্রেসম্যান অনেকের কাছে বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে। নানা তথ্য দিয়ে দিয়ে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে।”
এসব বাংলাদেশীদের কেউ কেউ ‘কোনো না কোনো অপরাধে অপরাধী বা চাকরিচ্যুত বা পলাতক’ উল্লেখ  করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না, পৃথিবীর অন্যান্য কয়েক দেশেও দেখবেন কোনো না কোনো একটা অঘটন, কোনো না কোনো একটা খারাপ কাজ করে তারা সেদেশে গেছে।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানেরাও এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত। জাতিসংঘের কাছ থেকে পাওয়া ‘গুমের’ শিকার ৭৬ ব্যক্তির তালিকায় বিভিন্ন রকমের ‘গলদ’ থাকার কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “কয়েকটা আন্তর্জাতিক সংস্থা খুব করে ‘গুম খুন’, ‘খুন গুম’ বলে শোরগোল করল। যখন গুমের হিসাব যখন বের হতে শুরু করল, তখনতো দেখা গেল সবচেয়ে বেশি গুম জিয়াউর রহমানের আমলে হয়েছে।
তিনি বলেন, “এরপর আমরা যখন তালিকা চাইলাম, ৭৬ জনের তালিকা পাওয়া গেল। আর এই ৭৬ জনের মধ্যে কি পাওয়া গেছে, সেটাতো আপনারা নিজেরাই ভালো জানেন”।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে এমনও ঘটনা আছে, মাকে লুকিয়ে রেখে আরেক জনকে শায়েস্তা করতে মাকে ‘খুন করেছে, গুম করেছে’, বলে রটনা হয়েছে সেই ঘটনাও বের হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, ভালো একজন আঁতেলের নাম বলতে চাই না। ঢাকা থেকে তিনি চলে গেলেন খুলনা, বলে গেলেন তাকে গুম করা হয়েছে। দেখা গেল তিনি খুলনা নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনা যখনই ঘটে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করে। গুম যত বড় করে দেখানো হয়, তাদের খুঁজে বের করার খবরটি যদি বড় করে দেখানো হতো, তাহলে বাংলাদেশের বদনাম হতো না।
মিয়ানমারের সামরিক শাসক কারও কথা মানতে চায় না বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জাতিসংঘ কেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আসিয়ান দেশগুলোও কম চেষ্টা করেনি। অন্যান্য দেশগুলোও করছে। মিয়ানমার সরকার সেখানে মিলিটারি রুলার, তারা  তো কারও কথাই মানছে না।
নির্যাতনের শিকার হয়ে নতুন করে কোনও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাদের প্রশ্রয় না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমরা যেসব রোহিঙ্গাদের থাকতে দিয়েছি তাদের সমস্যা নিয়েই আমরা জর্জরিত। এর ওপর আমাদের মানুষের ওপর বোঝা কীভাবে চাপাবো? সেজন্য আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। আলোচনা করে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তারা যাতে এদেরকে ফেরত নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখন যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে আমরা নাক গলাতে যাই না এবং যাবও না। অন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে আমাদের মাটি কেউ ব্যবহারও করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *