কর্তব্যরত ডাক্তার বিশ্রামে, রোগীর মৃত্যু!

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় ফিরুজ আহমেদ নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন : খুলনায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ

এ ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেছেন। মৃত ফিরুজ আহমেদ টেকনাফ পৌরসভার কে কে পাড়ার মুহাম্মদ আলীর ছেলে।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে পেট ব্যাথার কারণে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তার বাবা। তাকে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা না দেওয়ায় সকালের দিকে মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন : ১২ মাদক মামলায় আটক নিরাশা!

নিহতের স্বজনদের দাবি— চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এতে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে কান্না করছেন। পরিস্থিতি অবনতি হলে কেন রেফার করে নাই বলে অভিযোগ করেছেন।

দুজন চিকিৎসকের অবহেলায় ছিল তারা হলেন- ডা: সিনথিয়া ও শোভন দাস। ডা. সিনথিয়া ছিল কাল দিনের ডিউটিতে প্রথমে তার অবহেলা ছিল সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেননি। আজ সকালে ডা: শোভন দাস একটু দেখাও করে নাই রোগীর সাথে। সে কবে আসবে জানতে চাইলে নার্স বলে, স্যার বিশ্রামে আছে বলে ধমক দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা.শোভন দাস বলে, মারা যাওয়া রোগীর অবস্থা ভালো ছিল কিন্তু তার জন্য একটা ঔষধ পাইনি। রোগী মারা যাওয়ার আগে আমি বিশ্রামে ছিলাম।

তখন কি ডিউটি ছিল জানতে চাইলে বলেন, হ্যাঁ আমি কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলাম। ক্লান্তের কারণে একটু বিশ্রামে গিয়েছিলাম।

ফিরুজের বাবা মুহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে একরাত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাকে কোন চিকিৎসা দেয়া হয়নি। ডা.সিনসিয়া ও শোভন যদি বলতো রোগীর অবস্থা ভালো না তবে আমরা উন্নত চিকিৎসা নেয়ার জন্য অন্য কোথাও যেতাম। ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার জন্যই আমার আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

একই পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল পিকলু নামের এক রোগী তিনি জানান, ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কথা বলে শেষ করা যাবে না।

ডাক্তার সিনথিয়া ছিদ্দিককে বার বার মুঠোফোনে কল করা হলে,কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পেট ব্যাথার কারণে ফিরুজকে ভর্তি করেন। তখন তার রিপোর্ট ভালো ছিল।

যদি অবস্থা অবনতি হয় তাকে কেন রেফার করা হয়নি কেন। এতে বুঝা যায় তাদের অবহেলা ছিল। আমি একজন কিভাবে পুরো হাসপাতাল সামাল দিব। যারা কর্তব্যরত ডাক্তার ছিল তারা এখন কান্নাকাটি করছে। তবে তিনি ডাক্তারদের অবহেলার কথা স্বীকার করেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন,আমি শুনেছি তার পেটে ব্যথা ছিল তার কারণে স্বজনরা টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওসি আরও জানান, তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুব রহমানের বক্তব্য, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *