রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ (৫০) হত্যা মামলায় ২৯ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ অভিযোগ গঠন করেন। আসামিরা সবাই মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য।

অভিযুক্তরা হলেন- আরসা নেতা ও উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের নুর বশরের ছেলে মোহাম্মদ ছলিম, একই ক্যাম্পের শওকত উল্লাহ, মোহাম্মদ সালাম, জিয়াউর রহমান, মো. ইলিয়াছ, মো. আজিজুল হক, মোর্শেদ ওরফে মুর্শিদ, নুর মোহাম্মদ, আনাস, নজিম উদ্দিন, আবুল কালাম ওরফে আবু, হামিদ হোসেন, সিরাজুল মোস্তফা ওরফে সিরাজুল্লাহ ওরফে সিরাজ, মৌলভী মো. জকারিয়া, খাইরুল আমিন, মাস্টার আবদুর রহিম ওরফে রকিম, জাহিদ হোসেন ওরফে লালু, ফয়েজ উল্লাহ, ছমির উদ্দিন ওরফে ছমি উদ্দিন ওরফে নুর কামাল, সালেহ আহমদ, মোজাম্মেল ওরফে লাল বদিয়া, তোফাইল, মাস্টার শফি আলম, আবদুস সালাম ওরফে জাকের মুরব্বি, জকির, হাফেজ আয়াছ, মাস্টার কাশিম, মাস্টার শুক্কুর আলম ও মোস্তফা কামাল।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, অভিযোগ গঠনকালে ২৯ আসামির মধ্যে ১৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকের আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এর ৮ মাস ১৩ দিন পর গত ১৩ জুন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেন উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী সালাহ উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনির নির্দেশে এ সংগঠনের ৩৬ সদস্য পরিকল্পিতভাবে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেন। ঠিকানা শনাক্ত করতে না পারায় সাতজনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষী ৩৮ জন।

আরসার অন্যতম শীর্ষ নেতা জুনুনির নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেন গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা। তবে তার ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.